চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আমাদের নতুন আশাবাদ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোনেম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বুধবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জাতিসংঘ মহিসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: খবর পাওয়া গেছে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে। সেখান থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম ছাড়াও বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন। এরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে আশ্রয় নেয়া আরও রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা নিয়ে নান জটিলতা দেখ দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারও যেমন গড়িমসি করছে তেমন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমার যেতে চাইছে না। এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গারা বলেন:
একটি সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপদ জীবন যাপনের নিশ্চয়তা ছাড়া তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াটা কঠিন। যদি তাদের ওপর আর কোনো ধরনের অত্যাচার না করা হয় তবেই তারা সেখানে ফিরে যাবার আশা করতে পারে।
গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। গত বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি।
এ অবস্থায় নতুন করে দেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটলে বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ইতিমধ্যেই কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নানান সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করব সরকার এই বিষয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শুভ উদ্যোগ বলে মনে করছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আমাদের নতুন আশার জন্ম হয়েছে।