চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পদ ফাঁকা থাকলেও পদোন্নতি নেই

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা যেন সরকারের সবচেয়ে অবহেলিত এবং বঞ্চিত গোষ্ঠী। পদ ফাঁকা থাকলেও নেই তাদের পদোন্নতি।

অন্যসব বিষয়ের চেয়ে এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর, এখানে গর্ভবতী মা এবং গর্ভস্থ শিশু দুটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন নিয়ে তাদের ডিল করতে হয়। তাই এখানে শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সরকারিভাবে এরাই পদোন্নতি বঞ্চিত, যা তাদেরকে করে তুলছে হতাশাগ্রস্ত এবং তারা হারিয়ে ফেলছে কর্মস্পৃহা।

প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান এবার কনসালটেন্ট ডিপিসি ৩৩ বিসিএস পর্যন্ত হলেও গাইনীতে দেয়া হয়েছে মাত্র ২৭ বিসিএস পর্যন্ত (২৭ এরও ৭/৮ জন বাদ পড়েছে) অথচ বেশিরভাগ উপজেলায় গাইনী কনসালটেন্ট পদশূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে মোট ২৭৬ টি শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ১১৩ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে, যেখানে ফিটলিস্টে এখনও শতাধিক বিশেষজ্ঞ অপেক্ষমান এবং ১৬৩ টি গাইনী বিশেষজ্ঞ পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সহকারী অধ্যাপক পদেও রয়েছে এমন বৈষম্য। গাইনীতে মাত্র ২২ বিসিএস (তাও সবাই না) পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন। দীর্ঘ ১০/১১ বছর ধরে চাকরি করার পরও সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বহু গাইনীকোলজিস্ট প্রমোশনবিহীনভাবে এন্ট্রেন্স নবম গ্রেডেই পড়ে রয়েছেন, যার বিরূপ প্রভাব তাদের কর্মজীবনে, পক্ষান্তরে রোগীদের উপরও পড়বে।

একজন বিশেষজ্ঞ তৈরির পিছনে রাষ্ট্রের অবদান অনেক, কিন্তু তাকে যদি সঠিক মূল্যায়ন করা না যায়, তবে পুরো বিনিয়োগই ব্যর্থ হবে। অন্য সব ক্যাডারে ঐ একই বিসিএস ৪র্থ/৫ম গ্রেডে চলে গেলেও গাইনীকোলজিস্টগণ এন্ট্রেন্স ৯ম গ্রেডেই পড়ে রয়েছেন, যেটা নারীবৈষম্যের আরেক রূপ।

জানা যায়, এডহকভিত্তিতে শুধুমাত্র ভাইভার মাধ্যমে বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকগণকে পদোন্নতি দেয়ার পরিকল্পনায় পদ ফাঁকা থাকার পরও বিসিএস গাইনীকোলজিস্টগণকে বঞ্চিত করা হয়।

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। আর জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সকল নারীই মেয়েলি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং একবারের জন্য হলেও তাকে হাসপাতালে স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞে শরণাপন্ন হতে হয়। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তিতে এসেও আমরা যেন সরকারের সবচেয়ে অবহেলিত এবং বঞ্চিত গোষ্ঠী।

নারী চিকিৎসকরা বলছেন, যে দেশে মেধার মূল্যায়ন হয় না, সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে মেধাবী তৈরিও হয়না। দেশের নারী সমাজের চিকিৎসকদের যেন যথাযথ মূল্যায়ন হয়, সেজন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।