চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দিনই রেল চলাচল করবে: রেলমন্ত্রী

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দিনই সেতুর ওপর দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রোববার রেলভবনে পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঋণচুক্তি সই উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

গত মাসের ২৭ তারিখ এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের জন্য এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ২ হাজার ৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা) ঋণচুক্তি বেইজিংয়ে স্বাক্ষর হয়।

বাংলাদেশের রেল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পের সারসংক্ষেপে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন: প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন, সেদিনই এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে চার বছরের মধ্যে।

‘‘তবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত অংশের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে। যাতে উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই যেনো রেল চলাচল শুরু করা যায়।’’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের জন্য ২০১৬ সালের ৮ আগস্টে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে ২৭ হাজার ৬৫২ কোটি টাকার কমার্শিয়াল চুক্তিপত্র সই হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট ২১৫ দশমিক ২২ কিমি রেললাইন নির্মাণ করা হবে যার মধ্যে ২৩ কিমি উড়াল (এলিভেটেট) রেলপথ। এ সেকশনে ১৪টি নতুন রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ৬টি স্টেশন নবায়ন করা হবে। এ ছাড়া এ সেকশনে নতুন ট্রেন পরিচালনার জন্য ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হবে।

এ প্রকল্পের উপকারিতা তুলে ধরে বলা হয়, প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা-পদ্মাসেতু-যশোর করিডোর নির্মাণের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। মুন্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, নড়াইল- এ চারটি জেলা রেলওয়ে সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

‘পদ্মা রেল লিংক চালু হলে ঢাকা থেকে যশোরের দূরত্ব কমে হবে ১৮৬ কিমি, খুলনার দূরত্ব কমে যাবে ২১৩ কিমি। বর্তমানে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে সময় লাগে ৯ ঘণ্টা। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে লাগবে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা।’

দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) ১ শতাংশ বাড়বে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন: ঢাকা থেকে এ করিডোর দিয়ে খুলনা হয়ে মংলা পোর্ট পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু হবে। চালু হবে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ সরাসরি রেল যোগাযোগ।

এছাড়া ভবিষ্যতে এ রেললাইনের সঙ্গে বরিশাল ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‍এ করিডোরটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিআরটিসি এবং বুয়েটের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সুপারভিশন পরামর্শক হিসেবে সেবা দিচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে বলা হয়, ইতোমধ্যে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলার ৫৮৩ একর ভূমি অধিগ্রহন শেষ হয়েছে। ফরিদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও যশোর জেলার অবশিষ্ট ১২৩০ একর ভূমি অধিগ্রহন কার্যক্রম চলমান আছে।

এ পর্যন্ত ২৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে রিসেটেলমেন্ট অনুদান দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।