চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পথের পাঁচালী’তে রঙ, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সত্যজিৎ রায়ের প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’। ১৯৫৫ সালের এই সাদাকালো ছবিটির কিছু দৃশ্য রঙিন করে সকলকে চমকে দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের অ্যাসিস্টেন্ট রিসার্চ প্রফেসর অনিকেত বেরা। তিনি সত্যজিৎ রায়ের বড় ভক্ত। আর সেকারণেই তিনি ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটিকে বেছে নিয়েছেন।

মাত্র আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ। কিন্তু এই ক্লিপই ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রঙিন ‘পথের পাঁচালী’ মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেক ভক্তই পছন্দ করেননি ‘পথের পাঁচালী’র রঙিন এই রূপ। সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপেরও পছন্দ হয়নি রঙিন ‘পথের পাঁচালী।’ তিনি এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাথে। তিনি বলেন, ‘সাদা-কালো কোনও ক্লাসিক ছবিকে ছোঁয়ারই প্রয়োজন নেই।’

বিজ্ঞাপন

অনিকেত বেরাকে প্রশ্ন করা হয়, এত ছবি থাকতে ‘পথের পাঁচালী’ই কেন? তিনি বলেন, ‘পথের পাঁচালী আমার খুব প্রিয় ছবি। সে কারণে এই ছবিটার কথাই প্রথম মাথায় এসেছে। শুধু কালারাইজ়েশন নয়, ছবিটির ডিজিটাল আপগ্রেডেশন ও রেস্টোরেশনও করা হয়েছে। কিছু হলিউড ছবিতেও এই পদ্ধতির ব্যবহার হয়েছে। ভারতে এই প্রযুক্তিটা আনতে চাইছিলাম আমার প্রিয় ছবির মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনও ধারনাই ছিল না যে এটা বিতর্কের সৃষ্টি করবে। এআই ব্যবহার করে কেবলমাত্র অ্যাকাডেমিক পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটি সাদাকালোতেই দেখা উচিৎ, সেখানেই ছবির সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। পরীক্ষামূলক ভাবে কাজটা করেছি। মুঘল-ই-আজম রঙিন করতে কোটি রুপি খরচ হয়েছিল। আর এই প্রযুক্তিতে ভিডিও কোয়ালিটির উন্নতির পাশাপাশি ছবি রঙিন করে তোলা যায়, কোনো খরচ ছাড়াই অল্প সময়ে।”

কপিরাইটের ঝামেলা ছিল কিনা প্রশ্ন করা হলে অনিকেত বলেন, ‘কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না, একাডেমিক কাজে ব্যবহার হয়েছে। তাই কপিরাইটের বিষয় ছিল না। ছবি থেকে মাত্র দুই মিনিট নিয়েছি।

অনিকেত মনে করেন, দর্শক চাইলে ‘পথের পাঁচালী’ রঙিন করা যাবে। রঙিন করলে নতুন প্রজন্ম পছন্দ করবে ছবিটি। এই প্রযুক্তিতে অনেক পুরানো ভারতীয় সিনেমার ভিডিও কোয়ালিটি উন্নত করা যাবে। অনেকেই এই প্রযুক্তির ব্যাপারে জানেন না। আমেরিকার বড় বড় অনেক কোম্পানি এই ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সিলিকন ভ্যালির প্রায় সব কোম্পানিই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সাদাকালো ছবির আসল রং না জানলেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি সেটা ধারণা করে নিতে পারে।