চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পটুয়াখালীবাসীর বন্যায় ভরসা ‘মুজিব কিল্লা’

বন্যা, ঘূর্নিঝড়সহ দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণির জীবন রক্ষাসহ মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত হচ্ছে মুজিব কিল্লা।

আগামীকাল সকালে চার কোটির অধিক টাকা ব্যায়ে নির্মিত দু’টি মুজিব কিল্লা এবং প্রায় ২০কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নির্মানাধীন ৫টি মুজিব কিল্লার ভিত্তিপ্রস্তর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ’মুজিব কিল্লা নির্মান, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় জেলার কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের নেওয়াপাড়া, টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের তাহেরপুর, গৈয়াতলা, মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর, বালিয়াতলি ইউনিয়নের ছোট বালিয়াতলি ও টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরতলি গ্রামে অধুনিক এসব কিল্লা নির্মাণ হচ্ছে।

এর আগে ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লাখো উপকূলবাসী সহ গবাদিপশু মারা যাওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স¦পরিবারে গোটা উপকূল পরিদর্শন করেন। বানভাসী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করেন ত্রাণ সামগ্রী। এরপর ’৭২ সালে তাঁর নির্দেশে মাটির নির্মিত মুজিব কিল্লা গুলো আরও আধুনিক এবং ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেয় বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কলাপাড়ায় প্রথম ধাপে ৭টি মুজিব কিল্লা নির্মানের উদ্দোগ নেয়া হয়। তবে জেলায় মাটির নির্মিত ৫২টি এমন মুজিব কিল্লা রয়েছে,অযত্নে অবহেলায় যা এখন বিলীনের শঙ্কায়।

বিজ্ঞাপন

৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের প্রতিটি কিল্লা গ্রামের কৃষি জমি থেকে প্রায় ১১ ফুট উঁচুতে নির্মিত হয়েছে। পুরনো মাটির এ কিল্লায় নির্মিত এসব ভবনে দূর্যোগকালীন সময়ে এর প্রথম ফ্লোরে ও ছাদে অন্তত: ৫০০ পরিবারের মানুষ একত্রে আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়াও গবাদিপশুর জন্য ৫৫৮ বর্গমিটারের শেডসহ থাকছে ওয়াশ রুম সুবিধা, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও সোলার সিষ্টেম সুবিধা। স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাসহ খেলার মাঠ ও হাট বাজার হিসেবে ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে এসব কিল্লায়।

১ হাজার ৯শ’ ৫৭কোটি ৪৯লক্ষ টাকা ব্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দেশের ঘূর্নিঝড় প্রবন ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় এবং বন্যা প্রবন ও নদী ভাঙ্গন ২২টি জেলার ৮৪টি উপজেলায় সর্বমোট ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মানের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জুলাই ২০১৮ সালে শুরু এসব প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বর ২০২১সালে বাস্তবায়ন কাল নির্ধারন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্বোধনকে ঘিরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গৃহীত ’মুজিব কিল্লা নির্মান, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ এলাকায় এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

প্রকল্পের বাস্তবায়নে বন্যা, ঘূর্নিঝড় সহ দুর্যোগকালীন সময়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষের দু:শ্চিন্তা লাঘবসহ উন্নয়ন সুরক্ষা ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এমনটাই বলছেন উপকূলবাসী ও বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ঠরা।