চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পঁয়তাল্লিশ বছরেও হয়নি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র দুইদিন আগে এদেশীয় দোসরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। নির্মম-বেদনা বিধুর সেই ঘটনার ৪৫ বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে পারেনি সরকার। স্বাধীন দেশের মানুষের কাছে এই ব্যর্থতাও কম বেদনার নয়। বুধবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নতুন করে বলেছেন, ‘দ্রুতই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করা হবে।’ শুধু তিনিই নন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও বলেছেন, ‘জানুয়ারিতে শুরু হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হলে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে।’ পঁয়তাল্লিশ বছরেও একটি তালিকা না হওয়ার বিষয়টি শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের কাছে যেমন হতাশার, তেমনি দুঃখজনকও। গত কয়েক বছর ধরে তাদের এ হতাশার কথা আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখেছি। দীর্ঘ সময়ে তালিকা তৈরি না হওয়ায় তারা আশা ছেড়েই দিয়েছেন। অবশ্য কোন কোন সংগঠন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একরকম তালিকা তৈরি করেছেন। তারপরও আমরা মনে করি সরকারিভাবে একটি তালিকা থাকা প্রয়োজন। আমরা জানি, জাতিকে মেধাশূন্য করতে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য তালিকা করেছিল। ’৭১-এর ১৪ ডিসেম্বর সেই তালিকার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হলেও প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা শুরু হয় ২৫ মার্চ কালরাত থেকেই। অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম এখনো সাধারণের অজানাই রয়ে গেছে। তালিকা তৈরির সময় এ বিষয়টা সরকারের বিবেচনায় নেয়া উচিৎ। পাশাপাশি ইতিহাসের এ জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচার দ্রুত শেষ করাও জরুরি। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করতে হবে। এরইমধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার কয়েকটি রায়ে এ দলটিকে ‘ক্রিমিনাল দল’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইতিহাসের জঘন্য ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়া পলাতক দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির দণ্ড এখনো কার্যকর করতে পারেনি সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এ দুই যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করা হবে। এজন্য অবশ্য যে দুই দেশে তারা পালিয়ে আছে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের পাশাপাশি দলটির যুদ্ধাপরাধের বিচারেও দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করবে। পলাতক দুই খুনিকে যারা আশ্রয় দিয়ে রেখেছে তাদেরও বোধোদয় হওয়া উচিত।

Bellow Post-Green View