চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। সাম্য, সমতা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। ১৯৭২ সালের সংবিধানে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি  রয়েছে। বাংলাদেশ কমন ল’ রাষ্ট্র হিসাবে বিচারের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের উপর বর্তায়। আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির আইন অনুযায়ী দ্রুত ও প্রকাশ্য ন্যায় বিচার প্রাপ্তি মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী বিচার পর্যায়ে ফৌজদারী মামলা প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষের উপর বর্তায়। আসামীপক্ষের মামলা প্রমাণের বা তাকে নির্দোষ হিসাবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কোন দায়িত্ব নাই। এই বিবেচনায় আদালতে সাক্ষী উপস্থাপন ও সাক্ষীদের সঠিকভাবে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে অভিযোগকারী ও রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধি আইন (the Code of Criminal Procedure), ১৮৯৮ ও দন্ডবিধি (The Penal Code), ১৮৬০ মোতাবেক ভিকটিম এবং সাক্ষীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নি। তথাপি আমরা বলতে পারি, ফৌজদারী অপরাধ সংঘটনে যিনি আঘাত প্রাপ্ত হন বা তার কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হন, তিনি ভিকটিম। এছাড়া মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে এবং প্রমাণ উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে যাদের কে সাক্ষী হিসাবে আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তাব করা হয় তারাই সাক্ষী। মামলার তদন্ত পর্যায়ে ভিকটিম ও সাক্ষীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষী ও ভিকটিমের জবানবন্দির ভিত্তিতে তার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়। এছাড়া মামলার বিচার পর্যায়ে উক্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রায় প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ, অপরাধ ও বাস্তবিক অবস্থান পর্যালোচনা দেখা যায়, অপরাধীরা শক্তিশালী এবং সমাজের উচু শ্রেণির ব্যক্তি হন। রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও সম্পর্ক থাকে। অপর দিকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা হিসাবে পুলিশের প্রতি গণ মানুষের আস্থার সংকট রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অপরাধের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে ভিকটিম ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে ভিকটিম ও সাক্ষীর সুরক্ষার বিষয়ে কোন বক্তব্য নাই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উক্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবত আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি।

আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থা বিশেষ করে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি (ভিকটিম) ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যথাযথ ব্যবস্থা বা বিধান না থাকায় ন্যায়বিচার দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এটা শুধু বিচার চলাকালীন সময়ে সাক্ষীর নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বাক্ষীর অনুপস্থিতি বা সাক্ষীর বৈরী হয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরে ভীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রায়শ: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেই সংঘটিত অপরাধ বা অন্যায়ের অন্যতম সাক্ষী। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সম্পর্কে আইন শৃংখলা কর্তৃপক্ষকে জ্ঞাতকরণ, মামলা দায়ের, তদন্ত বা বিচার পর্যায়ে সঠিক তথ্য বা সাক্ষী প্রদান নিরাপদ, নি:শঙ্ক ও নিশ্চিত না করতে পারলে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। [সূএ: আইন কমিশন রিপোটর্, ২০১১]

মূল সমস্যা হচ্ছে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিরূদ্ধে যেন মামলা না হয়, সেজন্য অপরাধী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে হুমকি প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ, হয়রানি সৃষ্টি, ইত্যাদির মাধ্যমে তাকে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে জ্ঞাত করা বা মামলা দায়ের করা থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। অন্যদিকে, মামলা দায়ের হলে তা প্রত্যাহার করা অথবা মামলা চালু হলে সাক্ষীদেরকে সাক্ষী প্রদান করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে উল্লিখিত হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপপ্রয়াস চালায়। এ ধরণের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন বা চাপ প্রয়োগ হত্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং জবরদস্তিমূলক বশীভূতকরণের রূপ পরিগ্রহ করে।

বাংলাদেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে মামলা প্রমাণের হার প্রায় ৫% এর মত। অধস্তন আদালতে বিচার শেষে সাজা প্রদানের হার ২০০৭ সালে ২২.৬৬%, ২০০৮ সালে ২৩.৭৩%, ২০০৯ সালে ২৬.২১%, ২০১০ সালে ২৪.৬৯% হিসাবে তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ গড়ে সাজার হার প্রায় ২২-২৫% হয়। উচ্চ আদালতে আপীল ও নিষ্পত্তির ফলে এই সাজার হার অনেক কমে আসে। মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে এবং আসামী খালাস পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিকটিম ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপন এবং তাদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়াই অন্যতম মূল কারণ। প্রচলিত ফৌজদারী আইন অনুযায়ী আদালতে সাক্ষী উপস্থাপনের দায়িত্ব পুলিশের। সাধারণত পুলিশ সাক্ষী উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয় এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তার অভাবে সাক্ষীগণ নির্ভয়ে ও স্বেচ্ছায় আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করতে অনিহা প্রকাশ করেন। উক্ত প্রেক্ষাপটে ঘটনা সত্য হলেও আদালতে প্রমাণ করতে অভিযোগকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষ সমর্থ হন না।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে একটি দৈনিক পত্রিকার উদ্যোগে ঢাকার ৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ২০০২ হতে ২০১৬ সালের ৭,৮৬৪ টি মামলার বিচার কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, খুন, ধর্ষনের মত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫% মামলায় শুধু ভিকটিম ও সাক্ষীর সাক্ষ্যের অভাবে আসামীগণ খালাস পান। এছাড়া পিবিআই কর্তৃক ডাকাতি মামলার উপর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসে প্রায় ৫০% ডাকাতির মামলা সাক্ষীর অভাবে আসামীগণ খালাস পান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের ২০০৯ হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের মামলার গবেষণা করে স্বীকার করেন যে, ৪৮.৪৫% মামলায় সাক্ষীর অভাবে এবং সাক্ষীদের নির্ভয়ে আদালতে সঠিক সাক্ষ্য প্রদান না করায় আসামীগণ মাদকের মামলায় খালাস পান। প্রত্যেকটি গবেষনা প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, ভিকটিম ও প্রয়োজনীয় সাক্ষীগণ আসামীদের দ্বারা ভয়-ভীতি, নিরাপত্তার শঙ্কা এবং প্রভাবিত হওয়ায় তারা আদালতে সঠিক সাক্ষ্য প্রদান করেন না। অনেক সময় সাক্ষীগণ আদালতে উপস্থিত হতে চান না। আদালতে সাক্ষীদের উপস্থাপন ও নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু আইন না থাকায় বাংলাদেশে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আসামীগণ চূড়ান্ত শাস্তির মুখোমুখি খুব কম ক্ষেত্রে হন।

এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, সত্য উদঘাটনে, যা ন্যায় বিচারের জন্য অপরিহার্য, সাক্ষীগণ নি:শঙ্ক চিত্তে নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হন না। শুধু সাক্ষীর অভাবেই অনেক ভয়াবহ অপরাধের মামলার আসামী খালাস পেয়ে যায়। ফলে সমাজে অপরাধ দমনে অনেক বিকৃত পন্থার উদ্ভব হয়, যার ফলাফল ভাল নয়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক অপরাধ, যেমন, গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, জলদস্যুতা, মাদকদ্রব্যের ব্যবসায়, ইত্যাদি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে এ সমস্ত অপরাধের বিচারের জন্য ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হয়। [সূএ: আইন কমিশন রিপোর্ট, ২০১১]

আমাদের সাম্প্রতিক কয়েকটি আইনে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে। তার মধ্যে নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩, মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২, শিশু আইন ২০১৩, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রুলস ২০১০ অন্যতম। এই আইন সমূহে ভিকটিম ও সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু দিক নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশে মানব পাচার আইন ২০১২ এর মধ্যে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা নিয়ে সবচেয়ে ভালো বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।

জাতিসংঘ তার বিভিন্ন কনভেনশন ও রেজুলেশনে পক্ষ রাষ্ট্র সমূহ কে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা প্রদান করছেন। দক্ষিণ এশিয়া সহ পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে আইন প্রণয়ন ও কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮২ সালে, যুক্তরাজ্য ১৯৯৯ সালে, অষ্ট্রেলিয়া ১৯৯৪ সালে, হংকং ২০০০ সালে, জার্মানী ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৮ সালে, ইতালি ২০০১ সালে এবং কলম্বিয়া ১৯৯৭ সালে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে পৃথক আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করে। আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লি রাজ্য সরকার ২০১৫ সালে সাক্ষী সুরক্ষার কৌশল গ্রহণ ও কার্যকর করে। ভারত সরকার ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের খসড়া প্রস্তুত করেন। পাকিস্তান ২০১৭ সালে ও শ্রীলংকা ২০১৫ সালে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন কার্যকর করে।

বর্তমান আর্ন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের একটি মূল দিক হচ্ছে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়নকে উৎসাহিত ও প্রভাবান্নিত করা। এ প্রসঙ্গে ২০০৮ সালে প্রণীত UNODCএর সাক্ষী সুরক্ষা আইনের আদর্শ খসড়া (Model Witness Protection Bill) ও সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত অপরাধ বিষয়ক ফৌজদারী মামলায় সাক্ষী সুরক্ষার জন্য অনুসরণীয় নীতি (Good Practices for the Protection of Witnesses in Criminal Proceedings Involving Organized Crime) সংক্রান্ত ম্যানুয়েল এবং অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ভিকটিমদের জন্য ন্যায় বিচার করার মৌলিক নীতিমালা সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণা, ১৯৮৫ (UN Declaration of Basic Principles of Justice for Victims of Crime and Abuse of Power, 1985) উল্লেখযোগ্য।

আমাদের আইন কমিশন প্রায় ১৪ বছর আগে ২০০৬ সালে ভিকটিম ও সাক্ষী সুরক্ষা আইনের খসড়া উপস্থাপন করেন এবং ২০১১ সালে উক্ত আইন প্রয়োগে বিস্তারিত সুপারিশ হিসাবে ১৯ দফা সুপারিশ করলেও অদ্যবধি তা আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশে আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থার প্রায়গিক সফলতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় ভিকটিম ও সাক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আদালতে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি কার্যকরী আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। উক্ত আইনের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্থান করে নিতে পারবে বলে আশা করা যায়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)