চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নোয়াখালিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ২ জন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় রাসেল ও সোহাগ নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন। তিনি জানান: আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হই। এই ঘটনায় অন্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে সোমবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৪নং আসামি সাজু ও বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার রাতে মামলার ১নং আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে ও স্থানীয় দুর্ধর্ষ কিশোর গ্যাং লিডার এবং দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে র‌্যাব-১১।

আটক বাদল (২২) এখলাসপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যম এখলাসপুর গ্রামের মোহর আলী মুন্সিবাড়ির রহমত উল্যার ছেলে, দেলোয়ার একই গ্রামের কামাল উদ্দিন বেপারিবাড়ির সাইদুল হকের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া এখলাসপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিদন ভূঁইয়াবাড়ির শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. রহিম (২০) ও একই এলাকার মোহর আলী মুন্সিবাড়ির মৃত আবদুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহকে (৪১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে সোমবার রাতে ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামাসহ ৯ জনকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি আইনে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একই থানায় ওই ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা।

এর পর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করে। সেটি ছড়িয়ে দেয় ইন্টারনেটে। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এছাড়া গতকাল মঙ্গলরার রাতে নির্যাতিত গৃহবধু বাদী হয়ে ঘটনার মূল হোতা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করেন। এনিয়ে এ ঘটনায় পৃথক ৪ টি মামলা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ চৌধুরী।