চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত অর্ধশতাধিক

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের পর বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪১ জন।

এরই মধ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় ‍নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নেপালের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে দুইশো কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের মিয়াগদি জেলাতেই বন্যার কবলে কিংবা ও ভূমিধসে ২৭ জন মারা গেছেন।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভূমিধসে প্রায় শতাধিক মানুষ তাদের বাড়ি ঘর হারিয়েছে। স্থানীয় স্কুল এবং কমিউনিটি সেন্টারকে বন্যা কবলিত মানুষদের আশ্রয়ের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

মিয়াগদি জেলার ডাউলাগিরির গ্রামের প্রধান থামসারা পুন বলেন, প্রথম দফায় প্রায় ৩০-৩৫জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। নিহতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাম্বাসেডর জ্ঞাননাথ বলেন, ‘যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতোমধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৫০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমিধসে মারাত্মকভাবে আহত ১৩ জনকে আশপাশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।’

মিয়াগদি জেলার পার্শ্ববর্তী কাসকি জেলায় বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছেন সাতজন। দেশটির পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত পোখারা একজন সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।

এছাড়া আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির একেবারে পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জারাকোট জেলায়।

নেপালের মধ্যাঞ্চলের তিন জেলা গুলমি, লামজুং এবং সিন্ধুপালচকে মোট ছয়জন মারা গেছেন। দেশটির পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিশোর শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এমন আটজনকে উদ্ধারে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, নেপালের একেবারে দক্ষিণাঞ্চলে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিবছর এই নদী প্লাবিত হয়ে ভারতের বিহার রাজ্যে বন্যা দেখা দেয়।

হিমালয়ের দেশ নেপালে প্রতিবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরে বন্যা ভূমিধসের ঘটনা নিয়মিতই ঘটে।