চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নেপালের সংসদে ‘নতুন মানচিত্র’ চূড়ান্ত করতে বিশেষ অধিবেশন

ভারতের একদিকে চলছে চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে টানাপোড়েন, অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে সীমান্ত সংকট; এ নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর মধ্যেই নিজ দেশের মানচিত্র পরিবর্তন করে ভারতের দাবি করা তিনটি অংশ অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের ভোটাভুটির জন্য একটি বিশেষ অধিবেশন বসছে নেপালের সংসদে। লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলগুলোকে খাতায় কলমে নেপালের অংশ করার জন্যই এই বিল পাশের উদ্যোগ নিয়েছে নেপালী পার্লামেন্ট।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে আজ প্রতিনিধি পরিষদে আলোচনার পর ভোটদানের ব্যাপারে সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করে বলে জানায় সংবাদ সংস্থা পিটিআই। সংসদের মুখপাত্র রাজনাথ পান্ডে পিটিআইকে জানান, আজ বিলটি পাসের জন্য ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়েছে।

গত মাসে নেপালের ক্ষমতাসীন দল ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া উপক্ষো করে মানচিত্র চূড়ান্ত করে। ভারত এটিকে একতরফা হিসেবে বর্ণনা করে এবং ঐতিহাসিক ভিত্তিতে করা হয়নি বলে দাবি করে।

নতুন মানচিত্রে নেপালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল থেকে কালী নদীর পূর্বদিক অঞ্চল নেপাল অন্তর্ভুক্ত করে। যার মধ্যে উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পথ এবং লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি অন্তর্ভুক্ত, যা ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর থেকে ভারত রক্ষণাবেক্ষণ করে চলেছে এমন কৌশলগত অঞ্চল।

বিজ্ঞাপন

ভারত-চীন বর্ডারে লিপুলেখে ভারত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণের পরেই বিবাদ শুরু হয়। গত মাসে এই রাস্তা উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। নেপালের দাবি লিপুলেখ তাদের দেশের অংশ, যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দেয় ভারত। নয়াদিল্লি বলছে এগুলো উত্তরাখণ্ডের অংশ।

গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, আঞ্চলিক দাবিতে এই জাতীয় কৃত্রিম সম্প্রসারণ ভারত গ্রহণ করবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, নেপাল এই বিষয়ে ভারতের ধারাবাহিক অবস্থান সম্পর্কে ভালো অবহিত এবং আমরা নেপাল সরকারকে অনুরোধ করবো যে, এ ধরনের মানচিত্র থেকে বিরত থাকতে এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুরোধ করেছি।

সেনাবাহিনী প্রধান আজ জানান, নেপালের সাথে ভারতের খুব দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির সাথে আমাদের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় যোগসূত্র আছে। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক দৃঢ় থাকবে।

বিলটি পাস হওয়ার জন্য নেপালের পার্লামেন্টের দুই কক্ষে দুই তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। উচ্চকক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যা থাকলেও নিম্ন কক্ষে ক্ষমতাসীন সরকার নেপাল কম্যুনিস্ট পার্টির বিরোধীদের সাহায্য লাগবে বিল পাস করার জন্য।

নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস এই বিল সমর্থন করবে বলে নিশ্চিত করেছে।