চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নেত্রকোনায় প্রাবন্ধিক যতীন সরকারের জন্মদিন পালিত

করোনাকালে সীমিত পরিসরে পালিত হলো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক ও সাম্যবাদী তাত্ত্বিক অধ্যাপক যতীন সরকারের ৮৬তম জন্মদিন। 

বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনায় যতীন সরকারের নিজ বাসভবন সাতপাই গাড়া রোডের বানপ্রস্থতে কেক কাটেন তিনি। হিমু পাঠক আড্ডার আয়োজনে সীমিত পরিসরে লেখক প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সংগঠনের গুটি কয়েক সদস্যদের উপস্থিতিতে কেক কাটেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন হিমু পাঠক আড্ডা সংগঠনের সদস্য নাজনীন সুলতানা, তানভীর হায়াত খান, রিফাত আহমদ রাসেল, পার্থপ্রতিম বিশ্বাস ও আলপনা বেগমসহ ক্ষুদে হিমু সুফিয়ান ও লামিসা।

পরে জন্মদিন উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন যতীন সরকার।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবছর অধ্যাপক যতীন সরকারের নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই বানপ্রস্থে জন্মদিনের কেক কাটা ও কবিতা পাঠসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়ে আসলেও করোনায় গত বছর থেকে অনলাইনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ভক্ত অনুরাগীরা।

এবার অনলাইনে যতীন সরকারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু, কেন্দ্রীয় সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মঈন উল ইসলাম, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকুসহ জেলার শীর্ষ পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা।

অধ্যাপক যতীন সরকার ১৯৩৬ সালে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় চরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশক থেকে তিনি ময়মনসিংহ শহরের সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। আজীবন ময়মনসিংহে থেকেছেন এবং নাসিরাবাদ কলেজে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। অসাধারণ বাগ্মীতার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন যতীন সরকার। তার উপস্থিতি শহরের প্রতিটি সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অনিবার্য ছিল। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন উদিচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি ছিলেন।

পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন, প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন সহ প্রায় অর্ধশত বই প্রকাশ হয়েছে। ২০০৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে তাকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন