চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নূর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার মন্তব্যে অবস্থান ধর্মঘটে পরিবার

স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে রাজপথে শহীদ হওয়া নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার মন্তব্যের প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট করছেন নূর হোসেনের পরিবার।

সোমবার বিকাল তিনটায় নূর হোসেনের মা ও তিন ভাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন।

বিজ্ঞাপন

নূর হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই আপত্তিকর মন্ত্যবের জন্য মশিউর রহমান রাঙ্গার ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।

শহীদ নূর হোসেনের ভাই বড় ভাই আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা সাধারণ পরিবারের সন্তান, আমার ভাই শহীদ হয়েছেন।  শহীদ হওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আমাদের বাড়িতে গিয়েতার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।’

‘‘আমার ভাই গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে। অথচ আজ তাকে মিথ্যা বদনাম দেয়া হলো। তখন কি কোনো ইয়াবা ছিল? আমরা তার এই আপত্তিকর মন্তব্যের বিচারের ভার সাধারণ জনগণের উপর ছেড়ে দিলাম।  আমরা এর বিচার চাই।’’

বিজ্ঞাপন

গত ১০ নভেম্বর রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘‘গণতন্ত্র দিবস’র এক আলোচনা সভায় দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করলেন? নূর হোসেন কে? নূর হোসেন কে? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর।’’

ওই সভায় রাঙ্গা আরও বলেন, ‘‘নূর হোসেনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নাচানাচি করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গণতন্ত্রটা হলো এমন, যারা অতি ফেন্সিডিলখোর, ইয়াবাখোর, যারা ক্যাসিনোর ব্যবসা করে, তারাই হলো গণতন্ত্রের সোনার সন্তান। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখবেন নূর হোসেন দিবস। সেই নূর হোসেন চত্বর এরশাদ করেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র এরশাদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক ছিলেন।’’

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সেই সময়ের সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন যুবলীগ নেতা নূর হোসেনসহ নূরুল হুদা বাবু ও ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটো।

এখন সেই জায়গাটি শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার নামে পরিচিত। বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক / স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে মিছিল করা অবস্থায় পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা।

সেই ঘটনার পর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে উঠে। তার তিন বছর পর ১৯৯০ সালের শেষ দিকে বিদায় নিতে বাধ্য হন স্বৈরাচার এরশাদ।

Bellow Post-Green View