চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাতের হত্যাকারীদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার ২৩’শ ২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ) রায়ের কপি লাল কাপড়ে মুড়ে ফেনীর আদালত থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. সামছুদ্দিন ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ) রায়ের কপি নিয়ে হাইকোর্টে পাঠানোর উদ্দেশে ফেনী থেকে রওনা হন। তার সাথে পুলিশি পাহারা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফেনী জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর, মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহমেদ বলেন: ‘ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(১)/৩০ ধারায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।

নুসরাতের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন: ৩৭৪ ধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজ আদালত যখন মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের কাছে কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা হবে না।

শাহজাহান সাজু আরো বলেন: ‘নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে শুনানির জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা। সেই ঘটনায় ২৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষকে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ এপ্রিল অধ্যক্ষের লোকজন পরীক্ষার হল থেকে ডেকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

এই ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নুসরাতের বড় ভাই। এরপর সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত কর্মকর্তা।

হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেয় ১২ আসামি। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। আলোচিত এই রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী সোনাগাজী মডেল থানার এএসআই দিদার হোসেন।

Bellow Post-Green View