চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাতের মৃত্যু: হাইকোর্টের সতর্কবাণী যেন হারিয়ে না যায়

সাগর-রুনি হত্যা এবং মিতু ও তনুর মতো ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের মামলাটি যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই মন্তব্য একদিকে যেমন আশার আলো দেখায়, অন্যদিকে এতে আমাদের দেশের তদন্ত, আইন-আদালত এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতারও এক অসহায় চিত্র প্রকাশ পেলো।

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর এ বিষয়ে অভিযোগ করায় গত শনিবার আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে বোরকা পরা চারজন দুর্বৃত্ত নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুর্বৃত্তের আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতের অবস্থা অবনতি হওয়ায় সোমবার তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হলে সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যায় প্রতিবাদী নুসরাত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতের সামনে তুল ধরে হাইকোর্টের কাছে ঐ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন জানান। হাইকোর্ট তখন জানান, নুসরাতের মামলার তদন্তে গাফিলতি হলে আমরা হস্তক্ষেপ করবো।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, মারাত্মক আহত অবস্থায় নুসরাত যখন চিকিৎসাধীন, তখন তার মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যৌন নিপীড়ক ওই অধ্যক্ষের পক্ষে মিছিল/মানববন্ধনও হয়েছে। যা খুবই উদ্বেগজনক ও লজ্জার!

ওই অধ্যক্ষের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ও স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সেসব বিবেচনায় স্থানীয় ওসিকে বদলী করা হয়েছে এবং মামলার কার্যক্রম পিআইবিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমে নুসরাতের ঘটনা ব্যাপক হারে প্রচার ও প্রকাশ হবার কারণে এটা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে এরকম ছোটবড় নানা ঘটনা ঘটছে সবসময়। আমরা চিন্তিত সেসব ঘটনা নিয়ে, যেসব ঘটনা প্রচার বা প্রকাশ পাচ্ছে না এবং তাদের পরিণতি কী হচ্ছে? অপরাধ সংগঠিত হবার পরে ক্ষতিগ্রস্তের পরিচয়, সামাজিক অবস্থা নয়তো অভিযুক্তের ক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে তদন্ত-বিচারের এই অসহায় পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।

দেশের আইন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমাধান করতে। তবে ‘আইনের শাসন’ এর প্রতি জনগণের ভরসার জায়গাটা আরও উন্নতি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ মনযোগ দেবেন বলে আমরা আশা করছি।