চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিয়তির বিধান কে জানে

জন্ম আর মৃত্যু কোনটাই মানুষের হাতে নেই। বিধাতা তার হাতেই রেখেছে এ হিসাবটা। এখানেই শেষ নয়।  মানুষের তার কর্ম দিয়ে যে ভাগ্য নির্ধারণ করে তাও বিধাতার লিখন।

মোদ্দাকথা পৃথিবীতে মানুষ আসে তার ভাগ্যের লিখন নিয়ে।সেখানে কেবল নিজের বিবেক বুদ্ধি আর কর্ম দিয়ে পার্থিব জীবনে প্রমান করে নিজের ভালো মন্দের পরিধি।আর ব্যক্তি হিসেবে কে কতটা ভালো বা মন্দ তা পৃথিবীতেই অনুমেয় হয় মৃত্যুর আগে-পরে।

আর তা যদি মন্দ বা বেদনাময় তখন বাস্তবতার করুন পরিনতিকে বিধাতার লিখন বলে সান্ত্বনা খোঁজার অন্তরালে পরিতাপের আগুনে দগ্ধ হয়ে পুড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা কেবল নিজেকেই বহন করতে হয়। পরিবার পরিজন, সন্তান কেউ তার দায়ভার গ্রহণ করে না। জীবনের এ অতি বাস্তব  সত্যটাকে মানুষ ভুলে গিয়ে নিজের দম্ভ,ক্ষমতা দিয়ে অন্যায় করে। ভুলে যায় কোন ক্ষমতাই তার নিজের নয়। এর কারন হলো তখন তার পৃথিবীতে রাজাধিরাজ হবার মোহ বিবেককে অন্ধ করে দেয়।হয়ে যায় হিতাহিত জ্ঞান শুন্য।

জীবন তত্ত্ব দিয়ে হয়তো বা মানুষ চলে না বলে  বিশ্বের সব দেশে রাজনীতির দাবা চালে ক্ষমতার লড়াইয়ে, ‘আজ যে রাজা, কাল সে ফকিরের’ মতো ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে উচ্ছিষ্ট হয়ে করুণ পরিনতির উপমা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কদিন ধরে আলোচিত  হচ্ছে  এক সময়ের ‘আপোষহীন নেত্রী ‘ উপমাতে বিশেষায়িত দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে। দূর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জীবনের চরম সত্যের মুখোমুখি আজ বেগম খালেদা জিয়া। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছে একা। তার পরিবার মনে করে, বিদেশে গেলে হয়তো বা উন্নত চিকিৎসায় খালেদা জিয়া সুস্থ জীবন ফিরে পাবে।তবে বিদেশে যাবার পথ বড় দুস্কর।কারণ আদালতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ইচ্ছে করলেই বিদেশ যেতে পারবে না।

আসলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য যে আকুলতা সেখানে  আইন,  নিয়ম নীতি, রাষ্ট্র ও সরকারের ক্ষমতা সব কিছু উহ্য হয়ে যায় আবেগ ভালোবাসার কাছে। কারণ দিনশেষে একজন মানুষ পরিবারে কারো ভাই বা বোন, স্বামী, স্ত্রী কিংবা মা বাবা। তাই ভালোবাসা আর মায়ার বাঁধন দিয়ে তাকে বাঁচতে চায় ন্যায় অন্যায়ের বিচারের  দায়ভারকে উপেক্ষা করে। কিন্তু আইন যে অন্ধ।আইনের কাছে ভালোবাসা আবেগের কোন স্থান নেই। অতএব বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিধাতার নির্ধারিত নিয়তিকে মেনে নেয়া ছাড়া এ মুহুর্তে আর কিছু করার নেই বলে মনে করে জনগণ।

বিজ্ঞাপন

দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যাওয়ার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে একটা  অতীব সত্য কথা বলেছেন। ‘রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে’। এ কথার পূর্বাপর  তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক নানা অপকর্মের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা অস্বীকার করার কোন জো নেই। আসলে আমরা মানুষরা ভুলে যাই, কারো জীবন কেড়ে নেয়ার শক্তি আমাদের নেই। যার যতদিন বেঁচে থাকার কথা সে ততদিনই বাঁচবে। আর তাকে বাঁচিয়ে রাখবে সৃষ্টিকর্তা কোন না কোন উসিলায়। আর অন্যায়ের সাজা কে কতটুকু পাবে তাও বিধাতা থেকে প্রাপ্ত হয় নানা ভাবে, তা সে যত বড়ই ক্ষমতাবান হোক না কেন। আর বিধাতার এ সাজাকে বুঝতে দেশের আইনের ধারাকে জানতে হয় না। কেবল নিজের অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে নিজেকে জানাতে চাইলে অনুধাবন হয় প্রকৃতির সাজা আইনের চেয়ে কতটা কঠিন।

আইন আর রাষ্ট্রযন্ত্রের  জটিল অংকের হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হবে তা রাজনৈতিক ইস্যু। তবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এ নেত্রীর বর্তমান পরিস্থিতি জনগণকে আবেগী করে তুলছে। তিনি এক সন্তান হারিয়েছেন আরেক সন্তান ফেরারী হয়ে বিদেশে। আপন সন্তান থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা একজন মায়ের কাছে মৃত্যুর চেয়েও  ভয়ংকর। এটাই হয়তো প্রকৃতির সাজা। কিন্তু সব কিছু নিয়তির ফল। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী মনে করে পাহাড়সম অন্যায়, দূর্নীতি, মানুষ হত্যা করে মা ছেলে, দল নিজেদের উদ্ধত্য প্রকাশ করেছে দিনের পর দিন। আর আজ তারই সাজা ভুগছে হাসপাতালের বেডে বেগম খালেদা জিয়া  আর বিদেশে  তারেক জিয়া। অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা সব কিছু তুচ্ছ কিভাবে পরিনত হয় তার অনন্য উদাহরণ বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া।

‘চিরদিন  কারো সমান  নাহি যায়’- এ কথাটা বর্তমান সময়ে দেশের রাজনীতিবিদ থেকে  শুরু করে সব মানুষকে বুঝা উচিত। একসময়  যে বিএনপি ক্ষমতার দাপটে রাজপথে  হুংকার তুলেছে, আজ তারা তাদের নেত্রীর চরম দুঃসময়ে পাশে দাঁড়তে পারছে না। কারণ হিসেবে  হয়তো বা বলবে রাজনৈতিক ও সরকারের দমন পীড়ন তাদের পথে বাধা।কিংবা আইনের নামে সরকার অমানবিক আচরণ করছে।

এমন বির্তকের সৃষ্টি  কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখলে একটাই উত্তর  অন্যায়ের ফল ভুগতে হবে সকলকে আর এটাই নিয়তির বিধান।

তাই পরিবার, সমাজ, দেশে যারা নিজেদের অহমিকায়, ক্ষমতা,প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় দূর্নীতি করে নিজেকে শক্তিশালী করতে মরিয়া হয়ে  উঠেছে; তারা যে একদিন এ পৃথিবীতে অন্যায়ের সাজা পাবে না তা কেউ বলতে পারে না। নিয়তির বিধান কে জানে- এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকে রাজা ফকির থেকে সব মানুষের জীবনে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন