চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্যাতনের শিকার নারী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

স্বামী ডা. অলোক কুমার মন্ডলের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লিপিকা সরকার।

নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ৪ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাও নিতে হয় তাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্বামীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ঢাকায় ফিরে গত ১৩ অক্টোবর রমনা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন ডা. লিপিকা। মামলা হওয়ার পর অলোক পলাতক ছিলেন। তবে ২৪ নভেম্বর রাতে তাকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কেরানীগঞ্জ জেল হাজতে রয়েছেন।

২০০৪ সালে অলোকের সঙ্গে লিপিকার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ১০ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

ডা. অলোক কুমার মন্ডল ২২তম বিসিএস ব্যাচ। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আরএমও পদে যোগদান করেন।

২০১৭ সালে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডা. অলোককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তাকে হাসপাতাল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নারী নির্যাতন মামলার আসামি নিজ স্বামী অলোক সম্পর্কে ডা. লিপিকা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমার বাবা ব্যবসায়ী থাকায় আমার সুখের জন্য ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ ৮ দশমিক ১ শতাংশ সম্পত্তি ও খুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পত্তি ভবিষ্যৎ সুখের জন্য কিনে দেয়।’

বিজ্ঞাপন

‘‘কিন্তু সেসব সম্পত্তির লোভে ও নিজের নামে রেজ্রিষ্টেশন করার জন্য তিনি আমাকে নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে খুলনায় একটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার করার জন্য আমার বাবার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক হিসেবে চায়। এসব দিতে অস্বীকার করায় আবার আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।’’

ডা. অলোক কুমার মন্ডল 

ডা. লিপিকা বলেন, ‘‘কয়েক বছর ধরেই বেশ কয়েকটি অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় অলোক, নিজের আয়ের টাকা সে বিপথেই নষ্ট করে। এগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারধর করত, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতাম। এক পর্যায়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিতে চায়। এমনকি আমার ছোট্ট মেয়েটারও কোনো খোঁজ নেয় না। ও খুব বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, টাকা দিয়ে পুলিশ, প্রশাসন, জজ সব কিছু কিনতে চায়। ওর একটা সিন্ডিকেট আছে, সেই সিন্ডিকেটসহ আমি শাস্তি চাই।’’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ডা. অলোকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তার স্ত্রী ডা. লিপিকা সরকার মামলা করেন। মামলার এজাহারে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গা ঢাকা দেওয়া অলোককে গত ২৪ নভেম্বর মধ্যরাতে খুলনার দীঘুলিয়া উপজেলার বোনের বাসা থেকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ডা. অলোকের এখন পর্যন্ত চারটি জামিন শুনানি হয়েছে, সবগুলোই বিচারিক আদালত নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী শুনানী ২৮ ডিসেম্বর। তিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কারগারে রয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডা. অলোককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সঙ্গে তার সিন্ডিকের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই সময় ওষুধ বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক। ওষুধ কেলেঙ্কারির মামলায় দুই মাস খুলনা জেলে বন্দি থাকেন তিনি। সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও হাসপাতাল থেকে এখন তাকে সাসপেন্ডে রাখা হয়। পরে তিনি খুলনার স্টার ডায়াগনস্টিকসহ তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ার কেনেন।

বিজ্ঞাপন