চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচন তাই ধীরে চলছে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরোপুরি প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতিতেও। অন্য বছরগুলোতে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে স্টল, প্যাভিলিয়ন ও ভেতরের সড়কের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে এবার ২০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি। এলোমেলো আর ধীরগতিতে চলছে মেলার প্রস্তুতি।

নির্বাচনের কারণে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ৮ দিন পেছানো হয়েছে। ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মেলা। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সোমবার সরেজমিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠ ঘুরে এবং নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে মেলার প্রস্তুতি পর্বের এমন চিত্র পাওয়া যায়।

মেলার মাঠ গিয়ে দেখা যায়, কাজ চলছে খুব ধীর গতিতে। মাঠের বেশ কিছু জায়গা এখনও ফাঁকা পড়ে রয়েছে। নির্মাণ করা হয়নি ভেতরের কোনো সড়ক। প্রধান ফটক, মূল আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) স্টল, ইপিবির অস্থায়ী সচিবালয়সহ কোনো কিছুই এখনও সম্পন্ন হয়নি। ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেয়া স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজও চলছে কচ্ছপ গতিতে।

কেবল খুঁটি দিয়ে স্টলের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে

শুধু তাই নয়, মেলার উদ্বোধন কে করবেন তাও নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

ইপিবি বলছে, কয়দিন পরই জাতীয় নির্বাচন। কে সরকার প্রধান হবেন। তার উপরই নির্ভর করবে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের মতো এবারও পদ্মাসেতুর আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে মেলায় প্রবেশের মূল ফটক। কিন্তু এই ফটকে কেবল কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। এমনকি খালি পড়ে আছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন তৈরির স্থান।

এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল এর প্যাভিলিয়ন নির্মাণকারী হাবীব নামের একজন কর্মী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, নির্বাচনের কারণে মেলার প্রস্তুতি কাজ একেবারেই ধীরে চলছে। অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের ১৬/১৭ তারিখের দিকে স্টল নির্মাণের কাজ প্রায় মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে।

কাজ চলছে ইপিবির অস্থায়ী সচিবালয় নির্মাণের

‘‘কিন্তু এবারঅনেক কোম্পানি স্টল বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য এখনও মেলামাঠে আসেইনি।’’

তিনি বলেন, শুনেছি ২৭ ডিসেম্বরের পর থেকে ৩ জানুয়ারি নির্বাচনের কারণে মেলা মাঠের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হবে।

বেঙ্গল কোম্পানির স্টল নির্মাণে কর্মরত শ্রমিক শহীদুল্লাহ বলেন, কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। অনেক স্টলের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। বলতে গেলে মাঠের তিন ভাগের দুই ভাগ জায়গা এখনও খালি পড়ে আছে।

Advertisement

বাঁশ দিয়ে ঘেরাও স্থানে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হবে

তবে মেলামাঠের কিছু সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এই মাঠে বাণিজ্য মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ করছি। দীর্ঘ এই সময়ে কখনই নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এটা খুবই অমানবিক। নির্মাণ শ্রমিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা। এখানে কাজ করার সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হলে প্রায় এক কিলো দূরে যেতে হয়। কাছেধারে কোনো পাবলিক টয়লেটও নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই শ্রমিক।

গত ১২ বছর ধরে মেলা মাঠে পানির লাইন নির্মাণের কাজ করে আসছেন মো. হান্নান। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মাঠে কয়েক ভাগে শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। এসব শৌচাগারে পানির লাইন দেয়ার কাজ করি।

তিনি বলেন, আরো এক মাসেও কাজ শেষ করা যাবে না। এর মধ্যে নির্বাচনের কারণে কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখা হবে বলে শুনেছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) মহাপরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এবার নির্বাচনের কারণে একটু ধীরে কাজ চলছে। ব্যবসায়ীরাও বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নির্মাণাধীন কয়েকটি প্যাভিলিয়ন

তিনি বলেন, মেলার উদ্বোধন কে করবেন তা নিয়ে ইপিবির মধ্যে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। সেজন্য মেলা উদ্বোধনের সময় পেছানো হয়েছে। নতুন সরকার গঠন করার পরই মেলার উদ্বোধন হবে। এ কারণে এবার বাণিজ্য মেলার সার্বিক কাজে ধীর গতি।

এছাড়া ব্যবসায়ীরাও নির্বাচনকে ঘিরে নানা ভাবনায় রয়েছেন। সেজন্য তাদের স্টল নির্মাণের কাজ ধীরে চলছে হয়তো, জানালেন অভিজিৎ চৌধুরী।

প্রতিবছর যেখানে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন তৈরি করা হয় সে স্থানটি এখনও খালি পড়ে আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে এটা এবার দেরি করে শুরু করা হবে।

মাঠে বিশাল জায়গা রয়েছে এখনও ফাঁকা

শৌচাগার নির্মাণের বিষয়ে ইপিবির মহাপরিচালক বলেন, যারা স্টল বা প্যাভিরিয়ন তৈরি করবে তাদের কর্মীদের জন্য শৌচাগার তারাই করবে। তবে হ্যাঁ, এটা ইপিবিরও বিবেচনার বিষয়। ভবিষ্যতে এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে।

তিনি বলেন, ভোটকে কেন্দ্র করে মেলার কাজ বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এখনও। সবাই সবার স্টল নির্মানের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এ রকম সিদ্ধান্ত হলে তাদের জানিয়ে দেয়া হবে।

চলতি মাসেই স্টল বরাদ্দের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ইপিবি।