চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অতীত সংলাপের ব্যর্থতার কথাও মনে রাখতে হবে

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সংলাপে দেশের রাজনীতিতে প্রাণ এসেছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে, কী হবে কী হওয়া উচিত তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠতে শুরু করেছে জনগণের মাঝে। বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের যেসব এলাকায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি আর যারা ভোট দিতে যাননি তারাসহ প্রায় সারাদেশের মানুষের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বেশি। একে ইতিবাচক হিসেবে দেখলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপির সংলাপ জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দেশের ‘রাজনৈতিক সঙ্কট’ নিরসনে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনসহ তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক দফা দাবি থেকে সরে এসে বর্তমানে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের দাবি ও সংলাপ দেশের চলমান উন্নয়ন ধারাবাহিকতা সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখবেন। তিনি মনে করেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সাহসী নির্বাচন কমিশন গঠন প্রয়োজন। সকল রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ভিত্তিতে তিনি তা করতে চান। তবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত থাকার প্রেক্ষাপটে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া বিএনপির কার্যত কিছু করার নেই। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ইসি পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে বিএনপি। বিএনপির সব দাবি ও সবদলের ঐকমত্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে গেলে তা ২০১৮ সালের আগে সম্ভব নাও হতে পারে। নির্বাচন কমিশন গঠনের আইনের খসড়া তৈরি চলছে, তা শীঘ্রই জাতীয় সংসদে পাস হবে। দেশের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি সকল দলের মতামতের ভিত্তিতেই ইসি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবেন।  নিরপেক্ষ, কার্যকর ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ক্ষমতাসীন সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ জরুরি। নয়তো যেকোন ধরণের সংলাপ ও উদ্যোগ ২০০৬ সালের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী সংলাপের ব্যর্থ ফলাফলের মতো হতেই পারে। তারপর থেকে দেশে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ও সঙ্কটের কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার। নির্বাচনকে ঘিরে দেশে তৈরি হওয়া কোনো ধরণের সঙ্কট সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ জনগণ, দেশের অর্থনীতিসহ সার্বিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। তাই আমরা আশা করি, জনগণের মানবিক, রাষ্ট্রীয়-সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিরোধীদলগুলোর দাবির যৌক্তিকতা দেখে রাষ্ট্রপতি ও ক্ষমতাসীন সরকারের পদক্ষেপে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।

Bellow Post-Green View