চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনে শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে: বিজিএমইএ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিজিএমইএ।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডেকে এই অভিযোগ করা হয়।

সম্প্রতি পাস হওয়া পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কোন গ্রেডে কত টাকা বাড়ছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে শ্রমিকদের মাঝে। তা নিয়ে গত ৪/৫ দিন ধরে কর্মবিরতি ও কারখানা ভাংচুর করে আসছে শ্রমিকরা।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শ্রমিকদের মজুরি যে হারে বাড়ানো হয়েছে তার সাথে সমন্বয় রেখেই ২০১৮ সালে মজুরি বাড়ানো হয়েছে। মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন ৫২টি শ্রমিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল।

তিনি বলেন, গত ২৯ নভেম্বর বর্ধিত মজুরি বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এতদিন পর কেন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিল?

“আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়।”

নতুন মজুরি বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৮ হাজার ৩শ টাকা মজুরি দেয়া অত্যন্ত কষ্টকর। তবু সরকারের অনুরোধে কারখানা মালিকেরা তা মেনে নিয়েছেন।

Advertisement

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, যারা এই শ্রমিক অসন্তোষে উস্কানি ও ইন্ধন দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা এই খাতে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

তবে কারা শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিজিএমইএ। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করা হবে। বর্ধিত নতুন মজুরি জানুয়ারি মাসে দেয়া হবে। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের জানান। বিজিএমইএকে জানান। সমস্যা থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

কয়টি কারখানায় এমন অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, এই মূহুর্তে সঠিক পরিসংখ্যান নাই। তবে আশুলিয়ায় ২০/২৫টি এবং গাজীপুরে ১৫/২০টি। সব মিলে কমবেশি ৫০টি কারখানায় এই সমস্যা দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্য কারখানাগুলোতে।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও হামীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ বলেন, আন্দোলনকারীরা কিছুক্ষণ বসে থাকে, কাজ না করে চলে যায়। অনেকেই বলছে, তাদের বেতন কমে গেছে। কয়েকটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে না। টিফিনের পর কাজ করেনা। গাড়িতে ঢিল মারছে। ফ্যাক্টরিতে ঢিল মারছে।

শ্রমিকদের এই কর্মবিরতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলেছি, তারা ঠিকমতো তাদের সমস্যার কথা বলতে পারছে না। তারা বর্ধিত মজুরি নিয়ে বিভ্রাুন্ততে রয়েছেন।

এ কে আজাদ বলেন, দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেছে বেছে ফ্যাক্টরিকে টার্গেট করা হচ্ছে। আজ আমার ফ্যাক্টরিতে বিদেশিরা এসেছিল। ওই সময় রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করেছিল শ্রমিকরা। তখন হেলিকপ্টার দিয়ে ওই বিদেশিদের উদ্ধার করা হয়েছে। এই মেসেজ তো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তাই শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।