চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনে যেতে খালেদার সাজার বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত

চাওয়া হবে জামিনও

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতা ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী একাদশ নির্বাচনে দলের এ প্রধান যেন অংশ নিতে পারেন সে লক্ষ্যেই এই আইনি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে মোট ১৭ বছরের সাজা দেয় পৃথক আদালত। যার ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

‘‘তাই সেই সাজার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। বৈঠকে সাজার বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া ম্যাডামের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আসলে এটি আমাদের নিয়মিত দায়িত্ব, সেটাই পালন করছি।’’

আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেন অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলা স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে ৫টি। সেগুলো হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা। পাঁচটি মামলায়ই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (১/১১ এর সময়) করা। অন্য ৩১টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে।

মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালন ও ঋণ খেলাপির অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৬টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর থেকে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

এরমধ্যে গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আবারও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।