চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচন ঘিরে কেন সরব বিদেশি কূটনীতিকরা?

নির্বাচনের আগে আগেই সরব হয়ে উঠেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন। তার আগে আবারও সরব হয়ে উঠছেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা।

অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না এই বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে নির্বাচনের সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে বৈঠক করেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের আসা, আগামী নির্বাচনে ইসির ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা সহ নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধ এবং ১০কোটি ৪২ লাখ ভোটারের নিরাপত্তা নিয়ে নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইসির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ইউরোপিয় ইউনিয়ন।

নভেম্বরে নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রতিনিধি দল আসার কথাও জানিয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।

আবার ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের কাছে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ঢাকায় অবস্থানরত সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার, ভিয়েতনাম, কানাডা, তুরস্ক, চীন, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান, ভারতের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও প্রতিনিধিরা।নির্বাচন কমিশন

Advertisement

নির্বাচনের আগে আগে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক কেন? আর কেনই বা এত বেশি সরব বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা। সেই বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতিতে উন্নত দেশগুলো সবসময় নাক গলানোর চেষ্টা করে। সেটা শুধু বাংলাদেশে না। আর বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এমন যে একদিকে ভারত আর অন্যদিকে চীন। দুটোই এখন পরাশক্তির কাছাকাছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি বড় ইন্টারেস্ট আছে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে। সেজন্য নির্বাচনের আগে তাদের এজেন্সিগুলো সরব হয়ে যায়। শুধু এজেন্সিগুলো নয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও অনেক বেশি তৎপর হয়ে উঠে। তারা চেষ্টা করে এই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য।

ফিরোজ-উল-হাসান

তবে দেশের রাজনীতিবিদরা এমন পরিস্থিতি তৈরি না করলেও পারেন বলে মন্তব্য তার। বলেন, দেশের রাজনীতিবিদরা যখন নিজেরা কিছু করতে পারেনা তখন তাদের কাছে গিয়ে মাথা নত করে ও সাহায্য চায়। সেটা দেশের রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। আমরা শিখলামই না যে অন্যদের ডেকে এনে নিজের দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেওয়া ঠিক না।

সমস্যা সমাধানে তার মন্তব্য, দেশের জনগণ সাথে থাকলেতো বিদেশি কূটনীতিকদের ডাকার দরকার পড়ে না। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ করলেই হয়। জনগণ যাকে ভোট দিবে তাকে নিয়েই সরকার গঠন হবে। আমাদের নির্বাচন কমিশনেরও সেভাবেই কাজ করা উচিত। সব প্রতিষ্ঠানেরই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা উচিত। বিদেশি দলের সঙ্গে মিটিং সিটিং করে খুব বেশি সফলতা আসবে না। অন্যদেশের কূটনীতিকদের মাথা ঘামাতে আমন্ত্রণ করাটা আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতা।