চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনে গুজব ঠেকাতে সাংবাদিকদের অবাধ চলাচল জরুরি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন এবং পরদিন (মোট ৩দিন) সারাদেশে সংবাদকর্মী এবং মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। এরই ধারাবাহিকতায় মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের বাহনের উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিতে ইসিকে অনুরোধ করেছেন সম্পাদক পরিষদ।

ইসির সঙ্গে এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরাও সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল বিষয়ক নীতিমালা পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন। এর আগে নির্বাচন কমিশন কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠনও এ বিষয়ে কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছে।

ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞাসহ ডজনখানেক নির্দেশনা দিয়ে ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। যার মধ্যে যানবাহন সংক্রান্ত নীতিমালাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ও অনুমোদন সূচক স্টিকারযুক্ত যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের জন্য কোনো স্টিকার ইস্যু করা হবে না। অর্থাৎ ভোটের তথ্য সংগ্রহে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল বাদে অন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের। এই বিষয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামীণ জনপদে মোটরসাইকেল একটি দ্রুততম বাহন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রান্তিক সাংবাদিকরা ওই বাহন ব্যবহার করে থাকেন। ফলে নির্বাচনের সময় এই বাহনটি ব্যবহারের সুযোগ না পেলে তা তাদের কাজ বড় ধরনের সমস্যা হবে বলেই সাংবাদিকরা আশঙ্কা করছেন।

ইসিকে লেখা চিঠিতে সম্পাদক পরিষদ সেসব বিষয়ই তুলে ধরেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত সম্পাদক পরিষদের সভা থেকে পরিষদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানানো হয়, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের আগের ও পরের দিন সারাদেশে সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মুক্তভাবে চলাচল নিশ্চিত করা হোক। সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল, সাংবাদিক বা সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।’

কেন এই ধরনের নিয়ম করা হলো সাংবাদিকদের চলাচলের উপর, তা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তার জায়গা তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সামলোচনা করছেন। বিষয়টি আমাদেরও ভাবাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে-পরে নানা ধরনের গুজব, নেতিবাচক কার্যক্রম দেখা যায়। তথ্যের অবাধ প্রবাহ হলে এবং সেই তথ্য যদি পেশাদার সাংবাদিকদের মাধ্যমে আসে তাহলে তা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে। সেসব বিবেচনায় সাংবাদিকদের বহনকারী মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য বাহনের উপর জারি করা নীতিমালায় শিথিলতার বিষয়টি ইসি দেখবে বলে আমাদের আশাবাদ।

বিজ্ঞাপন