চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনী তদন্ত কমিটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে: সিইসি

ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কার্যক্রমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে এ কমিটিকে প্রো-অ্যাকটিভ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

বুধবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এতে ২৪৪ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারি জজ অংশ নেন।

সিইসি বলেন, যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না পেনাল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে, যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে পেনাল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউর এর ১৯০৮ এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব, যেটা আপনাদের চেম্বারে নয়, মাঠে।

তিনি বলেন, সমস্যার মুখোমুখি, প্রার্থীদের মুখোমুখি, আরচণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি হতে হবে, আপনাদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এটা অন্য রকম পরিবেশ বা অন্যরকম দায়িত্ব আপনাদের উপরে অর্পিত হয়েছে। এটাকে আপনাদের ভালোভাবে দেখভাল করা দরকার।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনাদেরকে ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের উপর যখন আস্থা রাখবে, আপনাদেরকে যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের উপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর আমাদের ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেক দিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন।

Advertisement

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা কী করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো। প্রয়োজন ছিল অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে। তা যায় না। ২০০৮ সাল থেকে যে নতুন একটা দায়িত্ব আপনাদের উপর অর্পিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের প্রত্যেকের উপরে কোনো কোনো ভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আপনাদের উপরে আগে হয়নি। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে।

মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে একই সুরে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের অংশীদার। এটা আমাদের জন্য একটা স্বস্তির জায়গা। আপনাদের এ কাজে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যই ছিল যে, মানুষের কাছে, একেবারে প্রত্যেকটা লোকের কাছে, প্রত্যেকটা সমস্যার কাছাকাছি থেকে সহজেই যেনো তারা আপনাদের সাহায্য পান, সে ব্যবস্থা করার জন্য। তারা যেনো তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখানে ওখানে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন মনে না করেন। আপনাদেরকে সামনে পেয়ে তারা যেনো অভিযোগ পেশ করতে পারেন।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রেন্ট হতে হবে এবং আপনাদেরকে জানাতে হবে যে, তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন। তারা যেনো সমস্যার সমাধান পায় এটা আপনাদেরকে দেখতে হবে।

সিইসি আরো বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, ২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল- আমরা আশা করেছিলাম যে প্রত্যেকটি কমিটি অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করার কথা ছিল। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০ টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল, ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি।

‘কারণ সেটাই, এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি। আজকে থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কী করণীয়, দায়িত্ব এবং কিভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনে শুনে, ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদেরকে রিলিফ দেবেন। যাতে তারা যাদের জায়গায় বসে, এলাকায় থেকে, ঢাকা পর্যন্ত না এসে আপনাদের কাছ থেকে, পাশে থেকে সমস্যা গুলোর সমাধান করতে পারেন।’

এসময় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।