চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিরাশার বৃত্তে আটকে গেল দণ্ডিতদের নির্বাচনের আশা

বিএনপির এক নারী প্রার্থীর দণ্ড ও সাজা হাইকোর্টে স্থগিতের পর নির্বাচনে খালেদা জিয়াসহ দণ্ডিত অন্য প্রার্থীদের একই আইনী প্রক্রিয়ায় গিয়ে নির্বাচন করার যে আশা জেগেছিল, তা যেন নিরাশার বৃত্তেই আটকে গেল।

কারণ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার  দুর্নীতির মামলার দণ্ড ও সাজা স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতির আদালত।

একই সঙ্গে বিষয়টি রোববার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন চেম্বার বিচারপতি

শনিবার সকালে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন।

আদালতে সাবিরা সুলতানার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন।

এ আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার দণ্ড ও সাজা স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত হয়ে গেল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাবিরা সুলতানার দুর্নীতির মামলার সাজা ও দণ্ড স্থগিত করেন।

ওই আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনগত নেই বলে জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম।

তবে হাইকোর্টের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কেউ যদি দুই বছর কিংবা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এমনকি সাজা ভোগ করে মুক্তিলাভের পর নির্বাচনে অংশ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির ৫ নেতার সাজা ও দণ্ড স্থগিতের একটি আবেদন খারিজ করেন।

হাইকোর্টের সে আদেশের বিরূদ্ধে বিএনপি নেতা ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার দুটি ধারায় নিম্ন আদালত সাবিরা সুলতানাকে তিন বছর করে মোট ছ’বছরের কারাদণ্ড দেন।

এরপর ওই মামলায় জামিন চেয়ে এবং দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে সাবিরা।

পরবর্তী হাইকোর্ট তাকে জামিনে দেন। এবং সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সাবিরা সুলতানার দণ্ড ও সাজা স্থগিত করেন বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।