চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজ ঘরে ‘পুরনো’ অস্ট্রেলিয়ার দাপট দেখল ভারত

ওয়ানডেতে ২৫৬ রানের লক্ষ্য এখন আর তেমন চ্যালেঞ্জ নয়। যদি প্রতিপক্ষ দলটা হয় ভারত, আর খেলাটা হয় তাদেরই মাঠে, তাহলে খানিকটা কঠিন তো অবশ্যই। একাদশে আবার একঝাঁক বৈচিত্র্যময় বোলার। পাল্টে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেসব অবশ্য পাত্তাই পেল না। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের জোড়া সেঞ্চুরিতে ১০ উইকেট ও ৭৪ বল অক্ষত রেখেই দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু করেছে অজিরা।

একটা বছর ছিলেন না স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার, তাতে যেন বেড়িয়ে পড়েছিল অজিদের পারফরম্যান্সের কঙ্কাল! দুজনে ফিরতেই সবকিছু ভোজবাজির মতো পাল্টে গেছে। বিশ্বকাপ, অ্যাশেজে তা দেখেছে বিশ্ব। এবার মুম্বাইয়ে সেই পুরনো অজিদের পেশি শক্তিটা টের পেল ভারতও!

মঙ্গলবার দিনটা যে ভারতের হতে যাচ্ছে না সেটা বোঝা গেছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং দেখেই। বড় সংগ্রহের জন্য সাধারণত যার দিকে চেয়ে থাকে দলটি, সেই রোহিত শর্মা ফিরলেন আগেভাগেই, পঞ্চম ওভারে ১০ রান করে মিচেল স্টার্কের শিকার তিনি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য লোকেশ রাহুলকে নিয়ে শেখর ধাওয়ান ভুলিয়ে দিচ্ছিলেন রোহিতের রান না পাওয়ার ব্যথা। দুজনে তোলেন ১২১ রান। ফিফটির দেখা পান ধাওয়ান।

ফিফটি পেতে পারতেন রাহুলও, ২৮তম ওভারে ৪৭ রান করা ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগার। পরের ওভারে পেসার প্যাট কামিন্সের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ৭৪ রান করা ধাওয়ানও।

ধাওয়ান-রাহুল ফিরতেই স্বাগতিকদের চেপে ধরেন স্টার্ক, কামিন্সরা। চাপ থেকে বের হতে পারেননি বিরাট কোহলিও। ১৬ রান করে লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন অধিনায়ক। বাকিদের ছোট ছোট ইনিংসের পর নির্ধারিত ওভারের ৫ বল আগে ২৫৫ রানে অলআউট তারা।

বিজ্ঞাপন

৫৬ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন অন্য দুই পেসার কামিন্স ও কেন রিচার্ডসন।

জবাব দিতে নেমে ভারতীয় বোলারদের পাত্তাই দেননি ওয়ার্নার-ফিঞ্চ। প্রতিপক্ষের দন্তহীন বোলিং দুমড়ে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন দুজনে। ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বারের মতো আড়াইশ রানের বেশি তাড়া করতে যেয়ে ১০ উইকেটে জয় তুলে নেয় অজিরা।

ওয়ার্নার-ফিঞ্চের ২৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি এখন ভারতের মাটিতে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিও।

১১২ বলে ১২৮ রান তুলে ম্যাচ সেরা ওয়ার্নার। ১৭ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কা এসেছে বাঁহাতি ওপেনারের থেকে। ফিফটি পাওয়ার আগে অবশ্য একবার আউট হয়েছিলেন, শার্দুল ঠাকুরের বলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেছেন। পরে আর সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষকে। তুলেছেন ক্যারিয়ারের ১৯তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

অধিনায়কত্ব আর ব্যাটিং দিয়ে ম্যাচ সেরা হতে পারতেন ফিঞ্চও। অজি অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ১১৪ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলে। ১৩ চারের সঙ্গে ২ ছক্কার মার ছিল তার ব্যাটে।

শেয়ার করুন: