চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজের অজান্তেই দুই জরায়ুতে এক মাসে তিন শিশু!

নির্ধারিত সময়ের আগে এক শিশুপুত্র জন্ম দেয়ার প্রায় এক মাস পর্যন্ত আরিফা সুলতানা জানতেনই না তার জরায়ু একটি নয়, দু’টি, এবং তার গর্ভে এখনো আরও দু’টো শিশু জন্মের অপেক্ষায় রয়ে গেছে!

খুলনার প্রত্যন্ত গ্রামের এই নারী বিষয়টি তখন টের পেলেন যখন ছেলে জন্মের মাসখানেক পর তার আবার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলো আর ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন তার গর্ভে জমজ শিশু আছে।

বিজ্ঞাপন

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ২০ বছর বয়সী আরিফা সুলতানা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি প্রিম্যাচিউর ছেলের জন্ম দেন। এটিই তার প্রথম সন্তান। কিছু সময় পর সন্তান নিয়ে তিনি বাসায়ও ফিরে আসেন।

কিন্তু এর ঠিক ২৬ দিন পর গত ২১ মার্চ আরিফা হঠাৎ পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে শুরু করলে তাকে দ্রুত যশোরের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। সেখানে তিনি আরও একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের জন্ম দেন বলে জানান তার সিজারিয়ান করা স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শীলা পোদ্দার।

ডা. শীলা বিবিসি’কে বলেন, ‘রোগী আমাদের কাছে আসার পর আমরা আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখতে পেলাম তার গর্ভে জমজ শিশু আছে। আমরা হতবাক হয়ে গেলাম। আমি এমন কিছু এর আগে কখনো দেখিনি।’

অবশ্য আরিফাকে কেন দু’বার দুই হাসপাতালে নেয়া হলো সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ডা. শীলা জানান, আরিফা ও তার স্বামীর আর্থিক অবস্থা খুবই দরিদ্র। প্রথম শিশু জন্মের আগে তারা আল্ট্রাসাউন্ড করাননি। ‘রোগী জানতেনই না তিনি এখনো অন্তঃস্বত্ত্বা,’ বলেন তিনি।

দ্বিতীয় জরায়ু থেকে জমজ ছেলে-মেয়েসহ ২৫ তারিখে মাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। মা ও দুই শিশু সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

দু’টি জরায়ু থাকতেই পারে: স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ
সন্তান ধারণের জন্য একজন নারীর সাধারণত একটিই জরায়ু থাকে। কিন্তু দু’টি জরায়ু আমরা যতটা অস্বাভাবিক বা বিরল মনে করছি, বিষয়টা আসলে ততটা বিরল নয় বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের গাইনিএমডি ক্লিনিকের স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টোফার নগ।

তিনি বলেন, ‘প্রথম শিশু জন্মের আগেই স্ক্যান করে দেখলে খুব স্বাভাবিকভাবেই রোগীর দুই সেট জরায়ু দেখা যেত। কিন্তু এ পরিবারটি অনেক প্রত্যন্ত এলাকার। তাই হয়তো আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানিংয়ের তাৎক্ষণিক সুবিধা তাদের ছিল না।’

‘হতে পারে এক্ষেত্রে তিনটি ডিম্বাণু পরিণত হওয়ার পর ঠিক একই সময় নিষিক্ত হয়েছিল। যার ফলে তার (আরিফা) গর্ভে একসঙ্গে তিনটি ভ্রূণের সৃষ্টি হয়েছে,’ বলেন ডা. ক্রিস্টোফার নগ।

এটা একটা অলৌকিক ঘটনা: আরিফার স্বামী
অপ্রত্যাশিতভাবে এক মাসের ব্যবধানে তিন সন্তানের মা হয়ে আনন্দে আপ্লুত আরিফা সুলতানা। তবে অর্থকষ্টের পরিবারে তিনটি শিশুকে কীভাবে ভালোভাবে বড় করবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছে তার মনে।

অবশ্য মাসে ছ’হাজার টাকারও কম আয় করলেও আরিফার শ্রমিক স্বামী সুমন বিশ্বাস আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমার সবগুলো বাচ্চা যে সুস্থ আছে সেটা আল্লাহর রহমত। এটা অলৌকিক একটা ঘটনা। আমি তাদেরকে ভালো রাখতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’