চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিখোঁজের ৪ মাসেও বাড়ি ফেরেনি শিশু মুরসালিন

আসাদুজ্জামান বাবুল, গোপালগঞ্জ:  

বাড়ির পাশের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ৬ বছরের শিশু হুসাইন মো: মুরসালিন ৪ মাসেও বাড়ি ফেরেনি। নিখোঁজ এই শিশু বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও জানতে পারেনি পুলিশ।

নিখোঁজ মুরসালিন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১১নং সাজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।

শিশু হুসাইন মো: মুরসালিনকে হারিয়ে নির্বাক তার মা-বাবা। পাগলপ্রায় বাবা-মায়ের রাত দিন কাটছে চরম হতাশার মধ্যে দিয়ে। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ফিরে পেতে চান তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মুরসালিনকে।

পরিবার জানায়, গত ২ আগস্ট শুক্রবার বাড়ির পাশে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়েছিলো মুরসালিন। নামাজ শেষে সবাই বাড়িতে ফিরলেও মুরসালিন আর ফিরে আসেনি।

প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে অনেক খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সন্তানকে না পেয়ে বাধ্য হয়ে ১৮ আগষ্ট মুরসালিনের বাবা মোঃ বাচ্চু সরদার কাশিয়ানী থানায় ৪ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন: আমডাকুয়া গ্রামের ছামাদ মুন্সীর ছেলে আসাদ মুন্সী (৬০), ছত্তার সরদারের ছেলে হারুন সরদার (৫৭), রাইতকান্দি গ্রামের নাজির শেখের মেয়ে বেদেনা ও ইউসুফ শেখের ছেলে রাসেল শেখ।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের ভিত্তিতে কাশিয়ানী পুলিশ আসামী আসাদ মুন্সী ও হারুন সরদারকে গ্রেপ্তার করে।  তবে  বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

হারুন সরদার ও আসাদ মুন্সী জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান নিখোঁজ মুরসালিনের বাবা মো: বাচ্চু সরদার।

তিনি বলেন: আমার সন্তান নিখোঁজের পর পাড়া প্রতিবেশি সকলেই সহমর্মিতা জানাতে আমাদের বাড়িতে এসেছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আসামীর বাড়ির কেউই আমাদের বাড়িতে আসেননি। এতে তাদের ওপর আমার সন্দেহ হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি। উল্টো আসামীরা তার ছত্রছায়ায় থেকে আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। চেয়ারম্যান কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় মামলাকেও প্রভাবিত করছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাজাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন: নিখোঁজের খবর পেয়ে আমি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে অবহিত করি এবং থানায় অভিযোগ করার জন্য বলি। বাচ্চু সরদার তার সন্তানকে হারিয়ে ব্যথিত হয়েছেন, আমিও তার ব্যাথায় সমান ব্যথিত। আশা করি দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্তানকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে।

১১নং সাজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তুহিনা পারভীন বলেন, মুরসালিনকে আমরা সবাই চিনি। সে খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে। গত বছর বিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়েও পুরো বছর জুড়ে ক্লাস করেছিলো। এ বছর আমরা তাকে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করে নেই। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস করে এবং লেখাপড়ায় অনেক ভালো সে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তাকে যেন দ্রুতই খুঁজে বের করে।

এ বিষয়ে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক ইফতেখারুল আলম জানান, গত মাসের ১২ তারিখে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আমাদের তদন্তের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি মামলার তথ্য উদঘাটন সহ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

সন্তানকে ফিরে পেতে মুরসালিনের বাবা-মা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন: