চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘যেটুকু পেয়েছি তা অনেক, যা পাইনি সেটা ভাগ্যে ছিলো না’

না পাওয়া নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই: সামিনা চৌধুরী

কিংবদন্তী রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন পরবর্তী প্রজন্মের সবচেয়ে সুকণ্ঠী শিল্পী বলা হয় সামিনা চৌধুরীকে। জনপ্রিয়তা, পুরস্কার, সম্মাননা, মানুষের ভালোবাসায় জীবনের আরও এক নতুন বছরে পা ফেললেন সামিনা চৌধুরী। শনিবার (২৮ আগস্ট) তার জন্মদিন। বিশেষ এ দিন উপলক্ষে ব্যক্তি জীবন ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সামিনা চৌধুরী কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন থাকছে? প্রতিবার এ দিনটি এলে আগেরদিনের কোন জিনিস মিস করেন?
প্যান্ডামিকের কারণে জন্মদিনে কোনো আয়োজন থাকছে না। ফ্যানরা দেখা করতে চায় কিন্তু করোনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তবে ফাহমিদা আসবে। সবাই একসাথে খাওয়াদাওয়া করবো। প্রতিবার জন্মদিনে পরিবারকে সবচেয়ে বেশি মনে করি। আগে আব্বা ছিলেন। ভাইবোন, আম্মা সবাই একসাথে ছিলাম। খালারা আসতেন। সবাই একসাথে হৈ-হুল্লোড় করে গাইতাম। এই জিনিসটা এখন হয় না। এটা মিস করি। এখন আমার নিজের আলাদা পরিবার আছে। আসলে আমার জীবনটা সবসময় সাদামাটা এবং হাসিখুশিতে পূর্ণ ছিল। এখনো তেমন আছে। তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

সংগীত সংশ্লিষ্টদের মতে, আপনার কণ্ঠ ইউনিক। সিনেমা ও অডিও শিল্পে সফলতাও অনেক। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, আপনার কণ্ঠের “প্রপার ইউটিলাইজ” হয়নি আজও…
প্রপার ইউটিলাইজ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তোমরা ভালো জানো! তবে যেটুকু পেয়েছি তা অনেক, যা পাইনি সেটা ভাগ্যে ছিলো না। না পাওয়া নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই।

প্রচলিত কথা আছে যে, কিংবদন্তীরা নাকি তাদের যোগ্য উত্তরসূরী রেখে যেতে পারেন না। কিন্তু আপনার বাবার ক্ষেত্রে সেই কথাটি পুরো উল্টো। আপনারা তিন ভাই বোনই (ফাহমিদা ও পঞ্চম) গানের সঙ্গে আছেন এবং সেটা সফলতার সঙ্গেই। আপনি কি সেটি মনে করেন?
আমি মনে করি যোগ্যতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তবে আব্বা অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তার সন্তান হিসেবে আল্লাহ আমাদের কিছুটা যোগ্যতা দিয়েছেন। এজন্য আমরা সম্মানের সাথে চলছি এটা অনেক ভালো লাগার। ফাহমিদার আলাদা পরিচিতি, আমার ভাইয়েরও তাই। তাদের কোনো প্রাপ্তি মনে করি আমারই প্রাপ্তি। দিনশেষে আমরা একই বাবা মা রিপ্রেজেন্ট করছি এটা অনেক বেশি গর্বের। সন্তান হিসেবে আমরা বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে পারছি এটা বিশাল বড় পাওয়া।

বিজ্ঞাপন

প্লেব্যাক কমে গেছে, অডিও ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ প্রায়। এরমধ্যে কপিরাইট জটিলতা। এখন চলছে মহামারী। এই পরিস্থিতি থেকে সংগীতশিল্পীদের উত্তরণের পথ কী?
যতোদিন না পরিস্থিতি ঠিক হয় অনলাইনে বেশি শো করা উচিত। শিল্পী-মিউজিশিয়ানদের বেশি পারিশ্রমিক দেয়া উচিত। লগ্নিকারকদের পারিশ্রমিকের বিষয়টি নজর দিতে হবে। চাকুরিজীবীরা বেতন পাচ্ছেন, কিন্তু শিল্পীরা কোথায় যাবে? তারা সাংঘাতিক দুর্ভোগে আছে। আমি মনে করি, অনলাইনে শো বাড়ানো ও সঠিক সম্মানি প্রদান একটি সমাধান হতে পারে।

আপনি সংগীত প্রযোজকও বটে। ওয়ার্ল্ড মিউজিক নামের প্রতিষ্ঠান ছিলো। এই অভিজ্ঞতাগুলো জানতে চাই…
এটি আমার স্বামী স্বপন (ইজাজ খান স্বপন) দেখাশুনা করতো। সেখান থেকে খুব ভালো ভালো অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে। স্বপন ব্যবসা করার জন্য চটুল বা হালকা কোনো অ্যালবাম রিলিজ করেনি। সিনিয়র জুনিয়র ভালো শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। অনেক ভালো শিল্পীর পাশাপাশি অনেক গানও বেরিয়েছে। এটাই সম্বল।

আপনার দুই সন্তান তেজী ও বীরবল। ওদের সম্পর্কে জানতে চাই। তারা গানের সঙ্গে আছে?
আমার মেয়ে গ্রাজুয়েশন করে চাকরিতে ঢুকেছে। তার গলায় ভালোই সুর আছে। কিন্তু সে হয়েছে আমার মতো। একদমই গান গাইতে চায় না। জানি না আগামীতে সে নিয়মিত গাইবে কিনা! ছেলেটা লেখাপড়া করছে। তবে প্যান্ডামিকে বসে না থেকে নির্মাণ, এডিটিং করছে। ‘রাফসান দ্য ছোটভাই’ ইউটিউব চ্যানেলের বিহাইন্ডে সে কাজ করছে।

গান নিয়ে আপনার আগামীর ভাবনা কী?
নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি। নাম সামিনা চৌধুরীস স্টুডিও। সেখানে নিজের কিছু গান আর্কাইভ করার ইচ্ছে আছে। নতুন প্রতিভাবান শিল্পীদের প্রমোট করতে সেখানে কিছু গান করানোর ইচ্ছে আছে। এই চ্যানেলের সাথে সবাই থাকলে এবং সাপোর্ট দিলে আমি অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবো।

বিজ্ঞাপন