চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাসিক নির্বাচন: জনমনে যেন ভোট নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়

গত কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক হানাহানি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আসক’র তথ্যমতে, নির্বাচন ঘিরে খুনোখুনি এবং সহিংসতায় গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন। আহতের সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। এই অবস্থায় আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। স্থানীয় সরকারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ইতিমধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি এক অপরকে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ করে আসছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন: যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দেয়, তারা একটি সময় গিয়ে এক হয়। এখানে নির্বাচন হচ্ছে আইভি বনাম অনেক কিছু। তাই অনেক পক্ষ এক হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সতর্ক থাকে। আমার নির্বাচনী অবস্থা যেখানে জমজমাট, সেখানে সহিংসতা সৃষ্টি করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে আমি আগেই জানিয়েছি যাতে ভোটকেন্দ্রে ভোটার যেতে পারেন। নারী ভোটার এবং তরুণ ভোটাররা যেন যেতে পারেন। কারণ এই ভোটগুলো আমার। কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না হয়। আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে কেউ যদি ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা করে, সেটি মোটেও ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।

বিজ্ঞাপন

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন, তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত, তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও নন। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে তৈমুর দাবি করেন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

আমরা কোন ধরণের নির্বাচনে প্রাণহানি হোক চাই না। আমরা চাই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নাসিক নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে থেকে আইনশৃঙ্খলা শান্তিপূর্ণভাবে বজায় রাখবে। কোন সন্ত্রাস ভোট কারচুপির অভিযোগ না উঠলে জনমনে ভোট সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাবে। নতুবা গত কয়েক বছরে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর ব্যাপক অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই এই ‍নির্বাচন ঘিরে যেন জনগণ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য এই নির্বাচন একটি অগ্নিপরীক্ষা। আমাদের আশা, কর্তৃপক্ষ যেন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জনমনে আশার আলো সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন