চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারী নির্যাতন রোধে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা বাড়াতে হবে: আসাদুজ্জামান নূর

নারী নির্যাতন রোধে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেকমন্ত্রী, অভিনেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

তিনি বলেছেন, ‘শুধু পড়াশোনা আর হোমওয়ার্কের চাপে শিশুরা যান্ত্রিক হচ্ছে। এতে শিশুদের মানবিক গুণাবলি নষ্ট হচ্ছে। তাই নারী নির্যাতন রোধে নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলার প্রতি ছেলেমেয়েকে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় এবং ডিপার্টমেন্ট অব সোশিওলজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মালেকা বেগমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন আসাদুজ্জামান নূর।

ওয়েবিনারে অতিথিদের মধ্যে আরও হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—অভিনয় শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও সংগীতগুরু রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সংগীতশিল্পী এলিটা করিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যৈষ্ঠ প্রভাষক আয়েশা আজিজ প্রভা।

স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর মধ্যে নারীদের প্রতি সহিংসতা আরও বেশি বেড়েছে।’
‘কোনো শিশুই নারী নির্যাতনকারী হয়ে জন্মায় না, সমাজ তাকে সেভাবে তৈরি করে’, বলেন ইলিয়াস আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ড. মালেকা বেগম বলেন, ‘সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি মেয়েদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে।শুধু ভার্সিটিতেই নয়, ভার্সিটির বাইরেও কোনো মেয়ে যদি নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদেরকেও সাহায্য করে এই ভার্সিটির যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি।’

ফেরদৌসী মজুমদার এ সময় প্রশ্ন করে বলেন, ‘নারী কি শুধুই ভোগ্যপণ্য, নারীর জন্মই হয়েছে কি শুধু অত্যাচারিত হওয়ার জন্য।’ নারীকে তার অধিকারের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘কীভাবে নারীকে সম্মান দেওয়া যায়, তার মর্যাদায় বসানো যায়—সেটা নারীর নিজেকেই অর্জন করে নিতে হবে।এই অর্জনের পথটা এত সহজ নয়, আবার একেবারেই অসম্ভবও নয়।’

এলিটা করিম ভিডিও বার্তায় বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং বৈবাহিক ধর্ষণরোধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যত বেশি সচেতন করা যাবে, তত বেশি নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে।’

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. পারভীন হাসান বলেন, ‘সাংসদরা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি জোর দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করতে চান। তাদের জ্ঞ্যাতার্থে জানানো প্রয়োজন একজন হুজুরও ধর্ষক হয়।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয় চার দেয়ালের মধ্যে নিজের বাড়িতে, নিজের পরিবারের মানুষের দ্বারা যেটা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত। আইন করে মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে কখনো অপরাধ দমন করা যায় না, বরং মানুষের ভেতর বোধ জাগ্রত করতে হবে যেটা সম্ভব সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। ধর্ষণকে ধর্ষণ বলতে হবে, সম্ভ্রম আর ইজ্জতের ভেতর ধর্ষণ আটকে রাখা যাবে না।’