চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারী দিবস মানে নারীর অবমাননা

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ঠিক এমন কোনো পুরুষ দিবস নাই। কারণটা পরিস্কার।
বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থা পুরুষ নিয়ন্ত্রিত এবং নারীর দাবির মুখে একটি দিবস
তাদের উৎসর্গ করা হয়েছে। নারীর দাবি সমমর্যাদার। মর্যাদা সম হবে না অসম হবে তার নিয়ন্ত্রক পুরুষরা নয়, নিয়ন্ত্রক হচ্ছে এই সমাজ। সমাজ তার বিকাশের প্রয়োজনেই পুরুষের হাতে নিয়ন্ত্রণভার তুলে দিয়েছে বা দিয়েছিলো।

আবার সমাজই পারে নারীকে সমমর্যাদায় বা নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় নিয়ে আসতে। এক সময় সমাজ বিকাশের শর্ত ছিল শ্রম নির্ভর। সেই যুগে ‘বীর পুরুষরা’ সমাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আস্তে আস্তে সমাজ শ্রমনির্ভর থেকে প্রযুক্তি ও মেধা নির্ভর হচ্ছে। কাজেই নারীর মর্যাদারও পরিবর্তন হচ্ছে, কালক্রমে আরও হবে ।

বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর সামাজিক শ্রম বিভাজনে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় পুরুষের সমান। প্রকৃতি নারীকে পুরুষ থেকে কিছুটা আলাদা করেছে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে। এই জায়গায় প্রাণী জগতের সকল নারীই আলাদা। বংশ বিস্তারে নারী গর্ভধারিণী। পুরুষরা নয়। প্রাণী জগতে সন্তান জন্মদানের পর পুরুষ প্রাণীর কোন ভূমিকা নেই। এমনকি লালন পালনেও। কিন্তু মানবজাতির পুরুষকুল সন্তান লালন পালনে একমাত্র ভূমিকা রাখে ।

বিজ্ঞাপন

এমনকি সন্তানের মা’র লালন পালনও। এইটুকু প্রাকৃতিক বিভাজন নারীদের মানতেই হবে। প্রকৃতি নারীকে অনেকভাবেই পুরুষ থেকে আলাদা করেছে। সেই আলাদা শারীরিক গঠন, বৈশিষ্ট্যের কারণে নারীরা পুরুষ থেকে অনেক জায়গায় শ্রমভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। সেই জায়গায় কিছু করার নেই ।

সমাজ নারীকে পিছিয়ে রাখলে সামাজিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে নারী-পুরুষ সমান অধিকারের প্রশ্নটি আসে। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, অধিকার যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। নারী পুরুষ উভয়েরই মেধা আছে, মনন আছে। সমান সমান হাত-পা আছে। কজেই আলাদাভাবে নারী দিবস, নারী অধিকারের দাবি নারীর মেধা ও যোগ্যতাকে অবমাননা করা হয়।

আজ নারী দিবসে নারী তার যোগ্যতা দিয়ে পুরুষের সমান মর্যাদা ভোগ করবে, সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের সামাজিক অবস্থান পরিবর্তন করবে এমন বক্তব্যই নারীদের কাছ থেকে আসা উচিত।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন