চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারী: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই

নারী দিবস আসলেই যেনো গণমাধ্যম তথা সামাজিক মাধ্যম জুড়ে নানা বিশেষণ আর সংবাদ-ফিচারের ছড়াছড়ি। আর অন্যসময়ে বছরজুড়ে নারীর নানা বঞ্চণা আর নির্যাতনের কথা। এসবের মধ্যেই বছর ঘুরে বিশ্ব নারী দিবস উপস্থিত, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

এবারের নারী দিবস উপলক্ষে পুরো বিশ্বের মতো দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: নারীকে সাবলম্বী হতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই। সেই বিবেচনায় নারী শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে সরকার। নারী সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে আইন। জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদীয় উপনেতা সবাই মহিলা। এটাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্জন। অতীতে ধর্মের নাম নিয়ে বা সামাজিকতার কথা বলে নারীকে পশ্চাৎপদ করে রাখার অপচেষ্টা সমাজ থেকে দূর হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারিকালে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে, নারী কাজ হারিয়েছেন এবং সেবা কম পেয়েছেন। এরকম সংবাদ এবারের নারী দিবসে গণমাধ্যমে এসেছে। এসেছে নারী উদ্যোক্তাদের কাজ কমে যাবার খবর, প্রণোদনা কম পাওয়ার তথ্য। এসবের মধ্যেও সংসার ও সমাজের দুঃসময়ে নারীই টেনে নেয় তার চারপাশের মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

অনেক দেশেই এখনও নারীদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা আছে। বাংলাদেশেও আছে। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে ক্লিনিং, লুব্রিকেটিং ও যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজে নারীদের অংশগ্রহণে আইনি বাধা আছে। আটটি সূচকের আলোকে ৩৫টি প্রশ্নের ভিত্তিতে এই সূচক প্রণয়ন করা হয়েছে। মোট নম্বর ছিল ১০০। এই ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৪। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো অবস্থান ভারতের—৭৪ দশমিক ৪। সূচকে তার পরেই ৭৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে মালদ্বীপ ও নেপাল।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, এসএমই খাতে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তারা পেয়েছেন প্রায় ৫ শতাংশ বা ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত বিতরণ হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মোট এসএমই ঋণের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ পেয়েছেন নারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে নারীরা অনেকটাই পিছিয়ে আছে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে। বলতে গেলে বছরজুড়ে চলা করোনার থাবা আরও পিছিয়ে দিয়েছে নারীকে। এই অবস্থার পরিবর্তন হয়তো একসময় ঘটবে, তারপরেও রাষ্ট্রীয় ও প্রতিষ্ঠানগত সরাসরি সাহায্য নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো দরকার বলে আমরা মনে করি। তাহলেই হয়তো বৈষম্য কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে নারী সমাজ।