চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় চার্জশিট

ভারতের কারাগারে আটক নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের
কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের মামলায় আদালতে
চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত করা হচ্ছে র‌্যাবে সেসময় কর্মরত সেনা
কর্মকর্তাদের।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সন্মেলনে একথা জানিয়েছেন
নারায়নগঞ্জের পুলিশ সুপার ডক্টর খন্দকার মহিদ উদ্দিন।

আদালত থেকে ফেরার পথে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার কাছে মাইক্রেবাসে করে অপহরণ করা হয়
ওয়ার্ড কাউন্সিলর
নজরুল
ইসলাম ও
আইনজীবী চন্দন
সরকারসহ
৭ জনকে। অপহরণের কথা আইন শৃংখলা বাহিনী সদস্যরা অস্বীকার
করার তিন দিন পর শীতলক্ষা নদীতে ভেসে ওঠে ৭ জনের লাশ। গ্রেফতার করা হয় কমান্ডিং
অফিসারসহ র‌্যাবের ৪ কর্মকর্তাকে। পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত এনসিসির কাউন্সিলর
নুর হোসেন।

অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে ভারতে আটক হয়ে কারাগারে আছেন নুর হোসেন ।

নারায়নগঞ্জের
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নুর হোসেনকে আটক করে জিঞ্জাসাবাদ করা না গেলেও তার
বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়ার মতো সব ধরনের তথ্য প্রমাণ আদালতে জমা দিয়েছেন তারা। বিশেষ
করে নুর হোসেনের সহযোগীরা আদালতে যেসব স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে তাতে নুর
হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০১৪ সালের
২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছ থেকে পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন
সরকারসহ সাত জনকে অপহরণ করেন র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন সদস্য। অপহরণের তিনদিন পর সাত
জনেরই মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলাটি তদন্ত করে। মামলা দায়েরের পরপরই
পুলিশ ‌র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কর্মকর্তা মেজর (অব)
আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব) এম এম রানাকে গ্রেফতার করে।

Advertisement

তারা আদালতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আরেক আসামি নূর হোসেন পালিয়ে ভারতে গেলেও
সেখানে ধরা পড়েন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

গ্রেফতারকৃদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ছাড়াও ১২ জন ১৬৪ ধারায়
স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তিন র‌্যাব কর্মকর্তারসহ সবার স্বীকারোক্তি,
প্রত্যক্ষদর্শী, নূর হোসেনের দেহরক্ষী ও ঘনিষ্টজনদের স্বীকারোক্তিতে এখন পর্যন্ত
২৩ র‌্যাব সদস্যসহ ৩৮ জনের নাম এসেছে।