চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হয় যদি বদনাম, হোক আরো…

নাম হলে বদনাম হবেই, এসব নিয়ে আমি ভাবি না: আফরী

অসম্ভব সুন্দরী একজন শিক্ষিকা। অন্যসবার ক্লাস মিস দিলেও তার ক্লাস মিস করেন না কোনো ছাত্র। রাস্তায় জ্যামের কারণে ক্লাসে আসতে দেরি হলেও সেই শিক্ষিকার ক্লাসে ভিডিও কলের সৌজন্যে হলেও সংযুক্ত থাকেন ছাত্ররা।

সৌন্দর্যকে পুঁজি করে সম্প্রতি এমনই একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছে দেশের অন্যতম একটি মোবাইলফোন অপারেটর। বিজ্ঞাপনটি রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছে, বিশেষত তরুণদের মাঝে। তবে তারচেয়ে বেশি হইচই ফেলেছেন ক্লাসরুমের সেই সুন্দরী শিক্ষিকা! যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী আফরী সেলিনা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষিকা হিসেবে তোলপাড় ফেলে দেয়া আফরী এসেছিলেন চ্যানেল আই অনলাইনে। পৃথিবীর যে কোনো চরিত্রে মানিয়ে যাওয়ার মতো লুক সঙ্গে নিয়ে। ছিমছাম গড়ন, মুখে এক চিলতে হাসি তার! কিন্তু গ্ল্যামারের কমতি নেই কোথাও!

শুরুতেই তার নামের বানান নিয়ে জানতে চাওয়া হয়, আপনি আফরী, আফরি নাকি আফ্রি? কারণ গুগলে সার্চ দিলে সব ধরণের নামেই পাওয়া যায় তাকে।

নাম নিয়ে এমন প্রশ্নে কিছুটা বিস্মিত এই মডেল ও অভিনেত্রী! কপাল কিংবা ভুরু না কুঁচকেও চোখ বড় করার অসম্ভব কৌশল তার জানা! এমন কৌশলের মহড়ার পর তিনি বললেন, এই প্রথম আমার নামের বানান নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলো। কোনটা ঠিক, তা জানতে চাইলো!

তবে কোন বানানে তিনি লেখেন, তা বললেন না! বরং পাল্টা প্রশ্ন করলেন, আপনার কোন বানানে স্বস্তি?

আফরী! এমনটা বলার পর হেসে বললেন, তাহলে ‘আফরী’ লেখার স্বাধীনতা আপনাকে দেয়া গেলো!

কথায় কথায় বোঝা গেল, লোকের স্বাধীনতায় অগাধ আস্থা আফরীর। তবে বিরক্ত হন যখন অন্যের স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করেন কিংবা অন্যের স্বাধীনতা যাপনে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। এমনই অবস্থা ছিলো তার অভিনীত সেনসেশন কনডমের বিজ্ঞাপন প্রচারের পর।

২০১৭ সালে নির্মাতা আদনান আল রাজীব নির্মাণ করেন সেনসেশন কনডম-এর বিজ্ঞাপন। যেখানে মডেল হিসেবে দেখা যায় আফরীকে। সাধারণত কনডমের বিজ্ঞাপনে কোনো পরিচিত অভিনেতারা ক্যারিয়ারের কথা ভেবে কাজ করতে উৎসাহ পাননা। কিন্তু কী ভেবে এই বিজ্ঞাপনে অভিনয় করলেন আফরী, আর বিজ্ঞাপন প্রচারের পর কী দর্শক প্রতিক্রিয়া ই বা কেমন ছিলো, এসব কথাও বলেছেন অকপটে।

আফরী জানালেন,  প্রথমত কনডমের বিজ্ঞাপনে কাজের প্রস্তাব পেয়ে কিছুটা চুপ মেরে গিয়েছিলাম, পরে ভাবলাম, একজন মডেল হিসেবে একটা প্রোডাক্টকে যদি হাইলাইট করতেই না পারি, তাহলে কিসের মডেল! তারপর যখন শুনলাম এটা নির্মাণ করছেন আদনান আল রাজীবের মতো নির্মাতা, তখন আর ভাববার সুযোগ নেইনি। ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছিলাম।

সেনসেশনের এই বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে এসে আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। আমি যে সত্যিই সুন্দর, এটা উপলব্ধি করি স্ক্রিনটেস্ট দিতে এসে। আর এই ধারণাটা আমার মাথায় প্রথম দিয়েছেন ডিরেক্টর আদনান আল রাজীব। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। আর এই বিজ্ঞাপনের জন্যই আমি কলকাতায় ২০১৮ সালে পুরস্কৃতও হয়েছি। -বলছিলেন আফরী।

কাজ করার পর সেটার প্রতিক্রিয়া কী হবে, লোকে কী ভাববে এমন ভয় পেয়ে বা এমনটা দুঃচিন্তা করে আমি কনডমের বিজ্ঞাপনের কাজ বলে এটা করবো না, এমনটা আমি ভাবি না। বদনাম নিয়ে আমি ভাবি না। আমি বিশ্বাস করি, নাম হলে বদনাম একটু হবেই! যে কাজটি অন্য দশজন মডেল বা অভিনেতা করতে পারছে না, সেটা আমি পারছি, এই অনুভূতি আমার কাছে সুন্দর। এরআগেও আমি প্যাডের বিজ্ঞাপন করেছি। মূলত আমি ইমাজিন করতে ভালোবাসি, একসময় হুমায়ূন আহমেদের প্রচুর গল্প পড়তাম, আর ইমাজিন করতাম! এখন স্ক্রিপ্ট পড়েও ইমাজিন করি, ইমাজিনেশনে যদি আমার নিজেকে ভালো লেগে যায় তাহলে পিছ পা হই না। যতো চ্যালিঞ্জিং রোল হোক, আমি করার চেষ্টা করি।

পিছনে সামনে কিংবা সোশাল মিডিয়াতে মানুষ বহু সমালোচনা করে, এসবে কান দেয়ার সময় নেই আফরীর।  এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। আর এরজন্য নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যেতে চান এই মডেল ও অভিনেত্রী। এক ফাঁকে স্মরণ করলেন শোবিজ ক্যারিয়ারের শুরুর কথা।

তখন ২০১১ সাল। ফেসবুকে মোটামুটি বেশ সরব। ফটোজেনিক হওয়ায় ফটোগ্রাফার বন্ধু বান্ধবরা তার ছবি তুলেন, আর সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করতেন আফরী। এরমধ্যে একদিন তার কিছু ছবি প্রথম নজরে পড়ে ওমেন্স ওয়ার্ল্ড-এর কণা আলমের। তখনো তিনি জানতেন না স্ক্রিন টেস্ট বা শুট মানে কী! অথচ এসব না জেনেই জীবনের প্রথম বিশাল আয়োজনে ওমেন্স ওয়ার্ল্ড-এর হয়ে শুট করলেন আফরী। শুধু তাই নয়, তাদের সাথে প্রথম শুটের পরেই এই প্রতিষ্ঠান তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেয়! এ যেনো মেঘ না চাইতেই জল! কিছু না ভেবেই রাজি হন আফরী।

এরপর আর পিছু ফিরতে হয়নি তাকে। ছুটেছেন। স্বপ্নের পূজারী হয়ে। রাজধানী শহরে নিজের বিশাল বিশাল বিলবোর্ড দেখে নিজের আত্মবিশ্বাসকে শান দিয়েছেন ক্রমাগত। আফরী নিজেও সেই সময়টাকেই শোবিজ অঙ্গনে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার জন্য আশিবার্দ বলে মনে করেন।

এর পরের বছরেই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। জীবনের প্রথম ছবি ‘অন্য পথ’। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কলকাতার নায়ক ইন্দ্রনীল। বাংলাদেশ থেকে ছিলেন সুমিত।

এরপরেও তিনি অভিনয় করেছেন মনিরুল ইসলাম সোহেলের ‘স্বপ্ন যে তুই’ চলচ্চিত্রে। মুক্তির প্রতীক্ষায় আছে ইদ্রিস হায়দার পরিচালিত ‘নীল ফড়িং’ চলচ্চিত্রটি। আফরী জানালেন, আগামী আগস্টে ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি পেতে পারে।

এরমধ্যে বেশকিছু মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে নাম কুড়িয়েছেন আফরী। বিশেষ করে আসিফ আকবরের ‘আগুন’ দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেন তিনি। কণ্ঠশিল্পী শহীদ ও শুভমিতার মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘পত্রমিতা’য় কাজ করেও আলোচনায় আসেন।

কথায় কথায় জানালেন, নেটফ্লিক্সের জন্য ইউরোপীয় একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। ছয় পর্বের ‘টিনটিন’ ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ইউরোপের দেশ মাল্টার নির্মাতা রে।

নতুন কোনো ছবিতে অভিনয়ের পরিকল্পনা বা প্রস্তাব পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এই অভিনেত্রীর বুদ্ধিদৃপ্ত উত্তর, এফডিসি ঘরানা থেকে শুরু করে আমরা যেগুলোকে আর্টফিল্ম বলি, এসব ছবিতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে আসছি। কিন্তু এগুলো নিয়ে অগ্রীম কিছু বলতে চাই না, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পারে।

ক্যারিয়ারের শুরুতে সিনেমাতে নিজের লক্ষ্যকে বেঁধে রেখেছিলেন আফরী। তাই অন্য মিডিয়ামে প্রস্তাব পেলেও খুব একটা দেখা যায়নি তাকে। কিন্তু সেই ভুল ভেঙেছে তার। এখন নিয়মিত নাটকেও দেখা যাচ্ছে তাকে। এ নিয়ে তার ভাষ্য: লক্ষ্যটাকে রেখেছিলাম সিনেমাতে। ২০১৭ সালে এসে বুঝতে পারলাম, একদিক ফোকাস করে অন্য দিকগুলোকে ডি-ফোকাস করে রাখার কিছু নেই। এরপর ছোটপর্দার সাথেও কানেকশান বাড়তে থাকলো। এখন থেকে সব ধরণের মিডিয়ামেই আমি কাজ করছি, বিশেষ করে নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছি।