চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাজাতের দরজা খোলে পবিত্র রমজান মাসে

বিদায় রহমত-মাগফিরাত দশক! জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে এলো নাজাত। পাপমুক্তির সোপানে আজ লক্ষকোটি মুসলিম। নিখিল পৃথিবীর অদ্বিতীয় স্রষ্টা মহান রাব্বুল আলামিন এ দশকে উত্তপ্ত দোযখের আযাব থেকে পরিত্রাণ দেন উম্মতে মুহাম্মদিকে।

নাজাতের শেষ দশকের নামকরণে রসুলে আরবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আর এ মাসের (মাহে রমজান) প্রথম দশক রহমত, মধ্য দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)।

বিজ্ঞাপন

মাহে রমজানের প্রতিটি ক্ষণ-মুহূর্ত বান্দার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মহানিয়ামত স্বরূপ। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত বান্দা পাপ পঙ্কিলতা হতে মুক্তির অনন্য স্মারক। আত্মার উন্নতি, রুহানি শক্তির উন্মেষসহ যাবতীয় পুণ্যবলে বলীয়ান হওয়ার মোক্ষম সময় এ মহিনা। ক্ষমা-করুণার স্বর্গীয় এ মিছিলে যোগদান করা আমাদেরও উচিত। নয়তো আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ হবে না।

রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদিসের বর্ণানা থেকে জানা যায়, ‘একবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে কদম মুবারক রেখে বললেন আমিন! দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সিঁড়িতেও কদম মুবারক রেখে একইভাবে বললেন আমিন!! সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সিঁড়িতে কদম মুবারক রেখে আমিন বলেছেন- এর রহস্য কী?

রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘জিবরাইল তখন তিনটি দোয়া করেছেন।  আমি আমিন বলেছি।  দোয়া তিনটি হলো-

বিজ্ঞাপন

(১) ধ্বংস তার জন্য, যে রমজান মাস পেয়েও গোনাহ মাফ করিয়ে নাজাত নিশ্চিত করেনি।

(২) বৃদ্ধ মাতাপিতা পেয়েও যে জান্নাত অর্জন করতে পারল না।

(৩) রসুলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র নাম শুনেও যে দরুদ শরিফ পড়ল না’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)। অন্য বর্ণনায় হযরত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তার নাক ধুলোকণায় মলিন হোক যে রমজান পেলো অথচ নিজের গোনাহসমূহ ক্ষমা করাতে পারল না’ (মুসনাদে বাযযার)।

বিশ্বখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনু জাওযি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘মহান আল্লাহ হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে ১২জন সন্তান দান করেছেন। তবে তাদের মধ্যে সবচে’ বেশি নিকটভাজন ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। অনুরূপ ১২টি মাসের মধ্যে রমজান মাসই দয়াবান আল্লাহর নিকট সবচে প্রিয়।

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর উসিলায় তাঁর এগারো ভাইয়ের কৃত অপরাধ মহিয়ান আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তদ্রূপ অন্যান্য এগারো মাসের বান্দার কৃত গুনাহসমূহ মাহে রমজানে ক্ষমা করে দেন’ (মাওয়াইযে রজভিয়্যাহ, পৃ. ১৭০)।

এমাসের তাৎপর্য অধিক। হাদিসে নববিতে এসেছে, ‘ব্যক্তি ঈমানসহ আল্লাহর সন্তুষ্টিচিত্তে রোযা রাখলে পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়’ ( মিশকাতুল মাসাবিহ, পৃ. ১৭৩)। পাপমুক্তির পাশাপাশি প্রভু নৈকট্যের অপার বার্তাবাহী নাজাতের এ মহিমা হরদম নাজাতের অপেক্ষক। তাই আসুন, আমরাও সিয়ামসাধনা, তিলাওয়াতে কুরআন, তারাবিহ, সাহরি-ইফতারসহ যাবতীয় ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদেরকে শুধরে নিই। মার্জনাপ্রাপ্ত হই কৃত অপরাধের। শামিল হই নাজাতের কল্লোলে।

Bellow Post-Green View