চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব বিল: অমিত শাহর বিরুদ্ধে অবরোধ চায় মার্কিন কেন্দ্রীয় কমিশন

ভারতের নতুন নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়ে গেলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কেন্দ্রীয় কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশনটি বলেছে, নতুন এই প্রস্তাবিত আইনটি ‘ভুল পথের দিকে একটি বিপজ্জনক মোড়’। বিলটি ইতোমধ্যে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ‍দুপুরে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৯ সংসদে উত্থাপন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বিলটির পক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন। সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোকসভায় ৩১১/৮০ ভোটে বিলটি পাস হয়। এখন তা রাজ্যসভায় পাস হলেই আইনে পরিণত হবে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘যদি বিলটি সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্যান্য প্রধান নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের কথা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবেচনা করা উচিত।’

বিজ্ঞাপন

‘ইউএসসিআইআরএফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহর প্রস্তাবিত ও উত্থাপিত বিলটি লোকসভায় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যেহেতু এর সঙ্গে ধর্মের শ্রেণিকরণের বিষয়টি রয়েছে।’

গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে নির্যাতিত হয়ে ভারতে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৯’ অনুমোদন দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

বিলটি ভারতের সংসদের দুইকক্ষে পাস হলে প্রতিবেশী এসব দেশের হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সী এই ৬টি সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে।

মূলত বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের এই উদ্যোগ। এতে বলা হয়, আগের অন্তত ১১ বছরের বদলে ৫ বছর ভারতে থাকলে ওইসব দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা ভারতে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন তাদের জন্য এই আইন।

শুরু থেকেই বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে এসেছে কংগ্রেস, বামসহ বেশ কয়েকটি দল। তাদের দাবি, এই বিল ভারতের সংবিধানের মূল চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাত। এই বিল ভারতের মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করার জন্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে অনেকে।