চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব আইন নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য, ছিনিয়ে নিতে না: মোদি

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য, ছিনিয়ে নেয়ার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের দেড়শ’ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দপ্তর কলকাতার বেলুড় মঠে মোদি বলেন, ‘আপনারা বিষয়টি যেভাবে বুঝতে পারছেন, বিরোধী দল তা বুঝতে চাইছে না। এমনকি বারবার পরিষ্কার করার পরও লুকানো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জনগণকে বিভ্রন্ত করছে। পুরো বিশ্ব জানে সংখ্যালঘুরা পাকিস্তানে কী ভয়ানক নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে…  পাকিস্তানকে তার জবাব দিতে হবে কেন তারা সংখ্যালঘুদের ওপর গত ৭০ বছর ধরে নৃশংসতা চালাচ্ছে।’

অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু আশ্রয়প্রার্থীদের নাগরিকত্ব দিতেই এই আইন বলে মোদি মন্তব্য করেছেন।

‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিষয়ে যদি বলতে হয়, আমরা উত্তর-পূর্ব ভারত, তার সংস্কৃতি, জনগোষ্ঠী, খাবার… সবকিছু নিয়েই গর্বিত। নাগরিকত্ব আইন যেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনগণের স্বার্থকে কোনোভাবে প্রভাবিত না করে আমরা তা নিশ্চিত করেছি,’ বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ভাষণের পর কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের দেড়শ’ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীসহ বেশকিছু উপলক্ষ একসঙ্গে নিয়ে দুই দিনের সফরে কলকাতায় রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে কলকাতায় পৌঁছান তিনি।

বিমানবন্দরের বাইরে সে সময় বহু মানুষকে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন এবং জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যভবন পর্যন্ত যাত্রাপথেও চলেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। নিরাপত্তার মধ্যেও শতাধিক প্রতিবাদকারীকে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে।

শনিবার দুপুর থেকে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেয়া বেশিরভাগ মানুষই ছিলেন বাম ও কংগ্রেসের সমর্থক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সফরের প্রথম দিনে কলকাতা পৌঁছানোর পরই রাজ্যভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

বৈঠক প্রসঙ্গে যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যেহেতু মোদি শহরে তাই সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে, এই রাজ্যের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি, এনপিআর মানছে না। সরকার যাতে আর একবার ভেবে দেখে।