চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গেও সহিংসতা, শান্তির আহ্বান মমতার

ভারতে সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে সহিংস আন্দোলন চলছে।  পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও শুরু হয়েছে ব্যাপক সহিংস আন্দোলন।

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে স্পষ্ট বক্তব্য রাখার পর সহিংস আন্দোলনের ঘটনা আরও বেড়ে যায়।

হাওড়া জেলার সড়কে ১৫টি বাসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। একটি পুলিশ ভ্যানও আগুনের শিকার হয়।  এমনকি স্থানীয় সাঁকরাইল রেল স্টেশন ও টিকিট কাউন্টারে আগুন দেয়া হয়। সেখানেও পুলিশ ভ্যান প্রতিরোধের মুখে পড়ে। স্টেশন মাস্টারের কক্ষেও হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা।  মুর্শিদাবাদও জেলায় রাস্তা অবরোধ করে সহিংস আন্দোলন করছে বিক্ষুব্ধরা।

এছাড়াও রাজ্যের আরও বিভিন্ন জেলায় থেকে এমন সহিংস ঘটনার খবর আসার প্রেক্ষিতে মমতা আজ আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার এক বিবৃতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, সকলকে বলছি, ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করুন। সহিংস ঘটা নয়, সাধারণ জনগণের ক্ষতি সাধন করে কোনো আন্দোলন নয়।

তিনি বলেন, আইনের নিজের হাতে তুলে নিবেন না। সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করবেন না।  সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করবেন না।

বিজ্ঞাপন

যারা এধরনের সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মমতা বলেন, নাগরিকত্ব বিল এই রাজ্যে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে না।

একদিন আগে ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)’র বিরুদ্ধে গণআন্দোলোনের ডাক দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃনমূলের এই নেত্রী বলেন, এনআরসি-সিএবি রুখতে প্রয়োজনে জেলে যাব।

শুক্রবার দিঘায় মমতা বলেন, ইতিমধ্যে পাঞ্জাব, কেরালা রাজ্য সরকার সিএবি এবং এনআরসি চালু করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘‌‌এর জন্য আমাদের জেলে পাঠাতে পারে। আরও অনেক বেশি অত্যাচার করতে পারে আমাদের। কিন্তু তার জন্য আমরা প্রস্তুত। কোনো অবস্থাতেই দেশকে দ্বিখণ্ডিত-ত্রিখণ্ডিত হতে দেব না।’

শেয়ার করুন: