চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাঈম এলেন, দেখলেন, জয় করলেন

অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন! আবির্ভাবেই বাজিমাত করে দেয়ার যুতসই এক লাইন। নাঈম হাসানের সঙ্গে যেটি বেশ যায় আজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুক্রবারই বল হাতে নিয়েছেন এ তরুণ অফস্পিনার। সতীর্থদের উইকেট কাড়াকাড়ির মধ্যে নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন ৫ উইকেট শিকারের কীর্তিত্ব। অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড যেটি।

তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রানে থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা লিড নিয়েছে ৭৮ রানের।

বাংলাদেশ-৩২৪, উইন্ডিজ-২৪৬ (দ্বিতীয় দিনের খেলা চলছে)

বয়স ১৭-এর ঘরে। কদিন পরেই ১৮তে পা দেবেন। ২ ডিসেম্বর এবারের জন্মদিনটা অনেকখানি ভিন্ন রঙের আলো নিয়েই রাঙাবে নাঈমের উৎসবকে। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস এখনও বাকি। নিজেদের প্রথম ইনিংসে আরেক স্পিনার তাইজুলকে নিয়ে ৬৫ রানের প্রতিরোধী জুটি গড়ার পথে ২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। বল হাতে ৬১ রানে ৫ উইকেট। বল করেছেন ১৪ ওভার, আছে দুটি মেডেন।

ওয়ারিকেনকে সাজঘরে পাঠিয়ে টেস্ট অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখান নাঈম। নাঈমের বয়স আজ আজ ১৭ বছর ৩৫৫ দিন, অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্সকে (১৮ বছর ১৯৩ দিন) পেছনে ফেলেছেন তিনি। আর দেশের অষ্টম বোলার হিসেবে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন।

জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়রা যখন ব্যাটিংয়ে গেল, তাইজুলের পর সাকিবের একই ওভারে জোড়া আঘাত শুরুর কাজটা করে দেয়। পরে কিছু ক্যাচ-স্টাম্পিং সুযোগ হাতছাড়া আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া। সফরকারীরা তাতে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছিল, তখনই আবারও হামলে পড়েছে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। যাতে নেতৃত্ব দেন নাঈম।

বৃহস্পতিবার নাঈমকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেন মুশফিক

টপাটপ দুটো উইকেট তুলে নাঈম হাসান আরও বিপদে ঠেলে দেন ক্যারিবীয়দের। এই অফস্পিনার চা বিরতির আগে সাজঘরে পাঠিয়েছেন সুনিল আমব্রিস (১৯) ও রোস্টন চেসকে (৩১)।

অভিষিক্ত এ অফস্পিনার নিজের তৃতীয় ওভারেই পান সাফল্য। তার প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট রোস্টন চেস। লেগস্টাম্পের বল ডিফেন্স করতে গেলে চেসের ব্যাট-প্যাড ছুঁয়ে সেটি শর্ট লেগে ইমরুলের তালুতে জমা পড়ে।

পরের ওভারে নাঈমের অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে আসতে থাকা বলে লাইন মিস করেন আমব্রিস। বল প্যাডে আঘাত হানলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি আগে দুবার জীবন পাওয়া এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

বিপর্যয়ে মুহূর্তে শিমরন হেটমায়ার ও শেন ডাওরিচ জুটিতে ফিফটি পেরিয়ে এগোচ্ছিলেন। পাল্টা আক্রমণ করে হেটমায়ার তো ৪৭ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ফেলেন, ৫ চার ও ৪ ছক্কায়। জুটিটা যখন ৯২ রানে, ত্রাতা হয়ে আসেন মিরাজ। এ অফস্পিনারের বলে ডিফেন্স করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের দারুণ ক্যাচে ফেরেন হেটমায়ার।

বিজ্ঞাপন

তারপরই আবারও দৃশ্যপটে নাঈম। দেবেন্দ্র বিশুকে এলবিডব্লিউ করে সফরকারীদের টেল ছাঁটার রাস্তা বানান। পরে ফেরান ওয়ারিকেনকে। ওটাই পাঁচ উইকেট শিকারের পাশে বসিয়ে দেয় তার নাম।

সকালে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেয়ার পর চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিংয়ে নেমেই টাইগার স্পিনারদের তোপে পড়ে উইন্ডিজ। তাইজুলের পর সাকিবের জোড়া আঘাতে রীতিমতো কাঁপতে থাকে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ।

উইন্ডিজ দ্বিতীয় দিনের সকালে ৩২৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে।

মিরাজের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেয়ার পর রিভিউ নিয়ে বাঁচা কাইরেন পাওয়েলকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয় ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল। বাঁহাতি এ স্পিনার পাওয়েলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদেই ফেলেন। প্যাডেল সুইপ খেলতে যেয়ে তাইজুলের ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করা পাওয়েল (১৪) রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।

চোট কাটিয়ে এ ম্যাচেই ফেরা সাকিব আল হাসান এরপর জোড়া সাফল্যে ভাসান টাইগারদের। আক্রমণে এসে নিজের প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছেন। বোল্ড করেন শাই হোপকে (১)।

ইনিংসের ১২তম সেই ওভারের শেষ বলে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান সাকিব। ১২ রান করা ক্যারিবীয় ওপেনারকে স্লিপে সৌম্যর তালুবন্দী করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

তার আগে দিনের শুরুতে দুই টেলএন্ডার তাইজুল ইসলাম ও অভিষিক্ত নাঈম হাসানের প্রতিরোধ ২৮ বল পর্যন্ত গড়ায়। আগের দিনের সঙ্গে আর ৯ রান যোগ করে প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

শুরুর চার ওভার দুই পেসার কেমার রোচ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে দিয়ে করিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। দুই পেসারকে ভালোই সামলাচ্ছিলেন তাইজুল ও নাঈম। কিন্তু ৯৩তম ওভারে স্পিনার জোয়েল ওয়ারিকেনকে আনতেই সর্বনাশ!

ওভারের প্রথম বলে ২৬ রান করা নাঈমকে স্লিপে শাই হোপসের ক্যাচে পরিণত করে ৬৫ রানের জুটি ভাঙ্গেন ওয়ারিকেন। তিন বল পর এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন মোস্তাফিজ। এই তিন বলের মাঝখানে একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিপদ ঠেকান যায়নি।

ক্যারিয়ার সেরা ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে অন্যপ্রান্তে দুই সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখেছেন তাইজুল।

জোড়া উইকেট শিকারে ওয়ারিকেন তার ইনিংস শেষ করেছেন ৪ উইকেট। আগের দিনে বাংলাদেশের হন্তারক গ্যাব্রিয়েলের শিকার সেই ৪ উইকেটেই।

মুমিনুল হকের ১২০ রানে ভর করে বৃহস্পতিবার ৮ উইকেটে ৩১৫ রানে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। চোট থেকে ফিরে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান করেন ৩৪। আর ওপেনার ইমরুল কায়েসের ব্যাটে আসে ৪৪ রান।

বিজ্ঞাপন