চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশন: স্বপ্ন পূরণে দৃঢ়তার প্রতীক

ছোটবেলায় অজস্র স্বপ্ন থাকে, শখ থাকে, জীবনে অনেক কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থাকে। স্বপ্ন থাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সংকীর্ণ জীবনে নয়, উজ্জ্বল জীবনের রঙিন মোহ ছুঁয়ে যায় হৃদয়। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠার সাথে সাথে স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা ও বিবর্ণ হয়ে যায়। শৈশবে পাঠ্য বইয়ে থাকে লেখাপড়ার কথা। ধীরে ধীরে মাথায় ঢুকে যায় পড়তে হবে, শুধু পড়ে যেতেই হবে। গদবাঁধা বই যেন জীবনেরই অংশ। একদিন অনেক বড় হতে হবে, বড় হওয়ার সংজ্ঞা মানে ডিগ্রি এরপর চাকরি, কিন্তু প্রায়োগিক শিক্ষাটা খুব কমই আসছে।

এভাবে গতানুগতিক পড়ালেখার গণ্ডি পেরিয়ে প্রায় সবাই ছুটে চলে চাকরির পেছনে। চাকরির জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে অনেকে সফল হয়, অনেকে ব্যর্থ হয়ে মনোবল ভেঙ্গে থমকে দাঁড়ায়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে, বেকার সমস্যা সমাধানে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে প্রচুর উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। আশার কথা, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর তরুণরাই তৈরি করতে যাচ্ছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভবিষৎ।

বিজ্ঞাপন

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে হালের তারুণ্যের আগ্রহের গতিপথও। অফিসের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী না হয়েও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুপ্ত স্বপ্ন দোলা দিয়ে যাচ্ছে বহু যুবকের হৃদয়ে। সেসব স্বপ্নবাজ তরুণদের পাশে বিভিন্ন সময়ে দাঁড়িয়েছে অনেকেই। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে হয়েছে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি। আপনিও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা, ‘‘এক আইডিয়াতে বাজিমাত” শিরোনামে তরুণ- তরুণীদের ব্যবসা ও শিল্পায়নে উদ্যোগী করে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশন। নারীর ক্ষমতায়ণ ও তরুণ উদ্যেক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে মাথায় কাজ শুরু করেছে এই ফাউন্ডেশন।

“এন্টারপ্রেনারশিপ’’ বা ‘‘উদ্যোক্তা’’ শিরোনামে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশন। এ প্রকল্পের আওতায় কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়ন থেকে বাছাই করা হয় যোগ্য এবং উদ্যমী তরুণ-তরুণীদের। পূর্ণাঙ্গ বৃত্তিসহ সফল উদ্যোক্তা তৈরি করা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। ৫০০ জনের মধ্যে (ন্যূনতম ৩০% মহিলা) নতুন সফল উদ্যোক্তা সৃষ্টির কাজ চলছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিটি তরুণ-তরুণীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা উদ্যোক্তা হাওয়ার স্বপ্ন বা ব্যবসায়িক ভাবনাসমূহকে জানবে এ সংগঠনের কর্তারা।

বিজ্ঞাপন

সেই পরিকল্পনা মোতাবেক পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত ও সঠিক গন্তব্য পরিচালিত করার সমুদয় সুবিধা দেবে এই ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন সময় গবেষণা ও তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধুমাত্র যথাযথ জ্ঞান ও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেক নারী উদ্যোক্তা সফলভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। নারীদের উদ্যোগী ও উদ্যমী গড়ে তুলতে না পারলে সামগ্রিক সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। আর তাই নারীকে আর পিছিয়ে না রাখতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

সম্ভাবনাময় ও আশাপ্রদ সেই সকল নারী উদ্যোক্তাকে শতভাগ বৃত্তি প্রদান করার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় শিক্ষা প্রদান করে একজন সফল উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করছে এই ফাউন্ডেশন। নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশনের “নারীদের সুযোগ দিন’’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি নারী উদ্যোক্তা অধ্যায়নকাল থেকেই কিছু কিছু অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে যা তাদের নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে মূলধন হিসেবে কাজ করবে।

এ প্রকল্প নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও কেরানীগঞ্জে বিপুল সংখ্যক নারীর কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে জাতীয় প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘আপনিও হতে পারেন একজন সফল ও আত্মনির্ভরশীল নারী’ এই বিশ্বাস সঞ্চারিত করতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা করছেন ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান ঢাকা- ৩ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন তিনি।

এর মধ্যে রয়েছে নারীদের নতুন ব্যবসা শুরুর প্রশিক্ষণ, ন্যাচারাল ডাইং ট্রেইনিং, ব্যাংক ঋণ প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ।এছাড়াও ব্যবস্যা ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। চলছে ই-কমার্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ। কেবল চাকরির পিছনে না ঘুরে বিভিন্ন স্বাধীন পেশায় যুক্ত হতে কেরানীগঞ্জের নারীদের অনুপ্রেরণা ও সার্বিক সহায়তা করছে নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশন।

পরিপূর্ণ পরিকল্পনার অভাবে অনেক সুক্ষ ও লাভজনক প্রকল্প রুপ নেয় ব্যর্থতায়। তাই তরুণ-তরুণীদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য, কৌশল এবং পদক্ষেপগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে নসরুল হামিদ ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের হাত ধরে কেরানীগঞ্জের উদ্যমীরা অবদান রাখবে দেশের নতুন অর্থনীতির বিপ্লবে এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্টরা।