চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নরসিংদীর শিবপুরে কৃষকদের জমি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ

বাংলাদেশ সরকার ৫২৮ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নদী পুন:খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেখানে সরকারের উদ্দেশ্য নদীর স্থান নদীকে ফিরিয়ে দেওয়া। সেই সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারের এই মহৎ উদ্দেশ্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। নদী পুন:খননের নামে কৃষকের ধানী জমির জোর পূর্বক দখল এবং স্থানীয় ইট ভাটায় বিক্রি করে কৃষকদের নিঃস্ব করে দেওয়ার পরিকল্পনায় নেমেছে।

শুক্রবার সকালে বাংলাদেশে ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী প্রতিনিধি হয়ে আসা রাবেয়া বসরী অভিযোগ করে বলেন, নদী পুন:খনন প্রকল্পে নরসিংদী জেলার পলাশ, শিবপুর থানাধীন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক শত শত কৃষক পরিবার নি:স্ব হয়ে গেছে। শুধুই তাই নয় প্রতি মুহূর্তে জীবন হারানোর শঙ্কায় আজ আমরা ঘুরছি।

তিনি বলেন, পলাশ ও শিবপুর থানাধীন মৌজার আলিনগর, চরসিন্দুর, ব্রজেরকান্দী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী পুন:খনন প্রকল্প চলমান রয়েছে। যেখানে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার কয়েক লাখ মানুষের কৃষি এবং ধানী জমি রয়েছে। পূর্ব পুরুষের কেনা সম্পত্তি যা সরকারের সি এস, আর এস, এস এ দলিলে নথী ভুক্ত। সরকারের খাজনা পরিশোধ করার পরও সেই জমি থেকে মাটি খননের কাজ চলমান রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর সীমানার মধ্যে আমাদের জমি না পড়লেও। জোরপূর্বক ঠিকারদারি কোম্পানি নদীর নকশা বহির্ভূত জমি থেকে মাটি তুলে নিচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে নদী পুন: খননের নামে প্রায় কয়েক লাখ কৃষকের ধানী জমির মাটি ‍তুলে নিয়ে গেছে। কৃষকের ফসল বাবদ যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বেশি। এর বাইরেও শত শত কোটি টাকার মাটি কেটে নিয়ে গেছে প্রভাবশালী মাটি খেকো বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

তারা অভিযোগ করেন, এই খনন কাজে নিয়োজিত মেসার্স ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী মো: খালেদ হোসেন, স্থানীয় ভূমিদস্যু ও এলাকার প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নদীর সীমানার বাইরে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের এই জমি মাটি রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে সেখানে এখন আর সফল হওয়ার সুযোগ নেই। পুরো এলকা এখন খনন করতে করতে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাস্তায় বসেছে স্থানীয় কৃষক। স্থানীয়রা বাঁধা দিতে গেলে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যারাই প্রতিবাদ করতে গিয়েছে তাদেরই নির্যাতন করেছে ভুমিদস্যু খালেদ। এমনকি প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে তারা। এখন আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে ভয় আর আতংঙ্কে।

এসব অভিযোগ নিয়ে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় থানা, উপজেলা পরিষদের কর্যালয়ে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হলেও এর কোন ব্যবস্থা বা সহযোগীতা করেনি।

এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে, সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। যার মধ্যদিয়ে কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করেন তিনি৷

সরকারের সকল কাজে সহযোগিতার করার অঙ্গীকার করে স্থানীয়দের স্বৈরাচারী ভুমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি, জমির যথাযথ ক্ষতিপূরণ জমির মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধামন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজের শিক্ষার্থী এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।