চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নবীপ্রেমের দৃষ্টান্ত: দুরূদ-সালাম ও না’ত

প্রেমিক আর প্রেমাস্পদ। প্রেমাস্পদের আসনে আসীন রব্বে কায়েনাত আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল, কুরআনিক উপাধিপ্রাপ্ত জগৎসমূহের ‘রাহমাতুল্লীল আলামীন’ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

অন্যদিকে প্রেমিকের কাতারে কেবল মুসলিমগণ নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্ট গোটা পরিবার। হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম মধ্যকার বিবাহের দেনমোহর ছিল আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুরূদ শরীফ ও সালাতু সালাম শরীফ।

বিজ্ঞাপন

মৌমাছি বিভিন্ন রকমের ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে বাসায় গিয়ে একত্রিত করে, কিন্তু সেই রস মধুতে পরিণত হয় যখন আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুরূদ শরীফ পাঠ করা হয়। নবীজীর প্রেম ও ভালোবাসা হল ঈমানদার হওয়ার পূর্বশর্ত। প্রিয় নবীজীর প্রতি প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হল নবীজীর উপর অধিকহারে দুরূদ-সালাম ও না’ত নিবেদন করা।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সস্তান-সন্তুতি এবং সহচরদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও শান্তি প্রেরণের প্রার্থনা করাই দুরূদ। আর নবীজীর শানে প্রশংসা করা কবিতা-কাসিদা হল না’ত।

নবীজীর উপর দুরূদ শরীফ পাঠ করা আল্লাহপাকের হুকুম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইরশাদ বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দুরূদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের দুরূদ প্রেরণ করো এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর” (সূরা আহযাব ৫৬)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর ১বার দুরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন” (সহিহুল বুখারী)। অন্যদিকে হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “আমার উম্মতের যে কোনো লোক যদি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ পাক তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল করেন, ১০টি উচ্চ মর্যাদা দান করেন, আমলনামায় ১০টি নেকি লিখে দেন এবং ১০টি গুনাহ মাফ করে দেন” (নাসাঈ শরীফ)।

ইসলামের ৪র্থ খলিফা হজরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওই ব্যক্তি কৃপণতম লোক, যার কাছে আমার নাম/আলোচনার পরও সে আমার উপর দুরূদ পাঠ করে না” (সুনানে তিরমিজি)।

বিজ্ঞাপন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের দাওয়াত প্রচার করছেন। শুরু হল আবু জাহেল, উদবা, মুগিরা ও শায়বাদের তাবু থেকে ভিন্ন মন্তব্য। তখনই শায়েরুর রাসূল হযরত হাসান বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু কাব্য রচনা করে চমৎকার জবাব দিতেন। মসজিদে নববী শরীফে হাসান বিন সাবিত এর জন্য একটি মিম্বরও তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি নবীজীর শানে বলেন, “তোমার সৃজন সে তো একেবারে দোষমুক্ত করে এবং তুমিও তাই চেয়েছিলে আপন ইচ্ছায়। তোমার তারিফ এই পৃথিবীতে বেড়েই চলেছে যেমন কস্তুরী ঘ্রাণ বাতাসে কেবলি ছুটে চলে”।

ইমাম বুসিরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। মিশরের কায়রোতে ছিল এ মনীষার বাড়ি। যিনি ১২৯০ সালে ইন্তেকাল করেন। নবীজীর শানে লিখিত তাঁর কালজয়ী ও অমরকাব্য “কাসিদায়ে বুরদা”। আজকাল প্রায় সকলে মুখে ‘মাওলা ইয়া সাল্লে ওয়া সাল্লেম দায়েমান…”। আর এ কবিতাটি লেখার কারণে স্বয়ং রাসূল থেকে ‘চাদর’ পুরষ্কারপ্রাপ্ত হন ইমাম বুসিরী। ইসলামী প্রসিদ্ধ মনীষা হযরত শেখ সাদী এর কথা আমরা সকলেই জানি। যিনি ইরানের সিরাজ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ও ১২৯১ সালে ইন্তেকাল করেন।

এ মনীষী নবীজীর শানে লিখেছেন, “বালাগাল উলা বি কামালিহি, কাশাফাদ্দুজা বি জামালিহি, হাসুনাত জামিয়ু খিসালিহি”। এ ৩ লাইন লিখে আর পরের লাইন মিলাতে পারছে না। চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলেন, স্বপ্নে এসে নবীজী বলে দিলেন, পরের লাইন হবে “সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি”। সুবহান আল্লাহ।

কে না চায় রাসূলের দিদার? প্রিয় নবীজী এর দিদার বা সাক্ষাৎ পেতে হলে অন্যতম একটি আমল হলো নবীজীর উপর বেশি বেশি দুরূদ শরীফ, সালাতু সালাম শরীফ পাঠ ও না’তে রাসূল চর্চা করা।

ইসলামের ইতিহাস গবেষণা করলে দেখা যায় অধিকাংশ ইমাম, আলিম, স্কলার, মুহাদ্দিস, ফকিহ, মুফাসসীর, আদিব ও শায়ের নবীজীর উপর দুরূদ পাঠের ফজিলতের উপর গ্রন্থ প্রণয়ন করেছে ও নবীজীর শানে প্রশংসা করে না’ত লিখেছেন।

আসুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বেশি বেশি দুরূদ শরীফ আর সালাতু সালাম পাঠের অভ্যাস করি ও না’তে রাসূল চর্চায় সময় ব্যয় করি।

Bellow Post-Green View