চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নন-কটন টেক্সটাইলে ১০% নগদ সহায়তা চায় বিজিএমইএ

বাজেট চ্যালেঞ্জিং তবে অবাস্তব নয়

তৈরি পোশাকের নন-কটন খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে এবং প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে রপ্তানির উপর ১০ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ।

শনিবার রাজধানীর উত্তরায় ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়জ এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত চার দশকে পোশাক রপ্তানি ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও পণ্যের ম্যাটেরিয়াল ডাইভারসিফিকেশন হয়নি বললেই চলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রপ্তানি অনুযায়ী, মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশই ছিল কটনের তৈরি, যা ১০ বছর পূর্বে (২০০৮-০৯ অর্থবছরে) ছিল ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত ১০ বছরে শিল্পের কটন নির্ভরতা বরং বেড়েছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মোট ২০ লাখ ৫২ হাজার টন ফাইবার আমদানি করে, যার ৯৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ ছিল কটন। মোট ৪৩০ টি স্পিনিং মিলের মধ্যে ৪০৩ টিই কটন স্পিনিং মিল। যেখানে বিশ্বের মোট টেক্সটাইল কনজাম্পশনের প্রায় ৭৫ শতাংশই নন-কটন, এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ  সিনথেটিক, যা বার্ষিক ৩-৪ শতাংশ হারে বাড়ছে, সেখানে কটনের শেয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ, যা বছরে ১-২ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বে নন-কটন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।’

২০১৭ সালে সিনথেটিক বেসড টেক্সটাইল ট্রেড এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বৈশ্বিক ফাইবার চাহিদার বিচারে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোতে এই শিল্পের কাঁচামাল ‘পেট্রোক্যামিকেল চিপস’ থাকায় এবং তাদের স্কেল ইকনোমির কারণে তারা প্রতিযোগী সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে নন-কটন খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানী উৎসাহিত করতে, বিশেষকরে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে নন কটন পোশাক রপ্তানির উপর ১০ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার অনুরোধ করা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শিল্পকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিজিএমইএর বেশ কয়েটি প্রস্তাব ছিল, কিন্তু সেগুলো বিবেচনা করা হয়নি। তবে কয়েকটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত রাখায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

করোনার কারণে পোশাক খাত প্রকৃত এখনও ঘুরে দাঁড়ায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরের ১১ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাসের তুলনায় তা ১০ শতাংশ কম। আবার চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ পিছিয়ে আছি। আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ। কিন্তু খুচরা বিক্রি এখনো মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

গত ৯ মাসে পোশাকের দাম ৪ দশমিক শুন্য ৫ শতাংশ কমেছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ ফারুক হাসান বলেন, সুতা, ক্যামিকেল ও কন্টেইনার ফ্রেইট খরচ বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তাই বর্তমানেএ শিল্প যে আর্থিক চাপে রয়েছে তা বিবেচনা করে মজুরি বাবদ দেয়া সরকারের ঋণ প্রণোদনা পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। কারণ শিল্প বাঁচলে ব্যাংকের ঋণ শোধ হবেই। সেই সাথে কর্মসংস্থান নিরাপদ হবে।

করোনায় পোশাক শিল্প নানা সংকটে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শিল্পের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় আনতে রপ্তানির উপর বর্তমান শুন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর হার আগামী ৫ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখার অনুরোধ করছি। এতে এতে উদ্যোক্তারা মধ্য মেয়াদি ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন।

নগদ সহায়তার উপর আরোপকৃত ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ বলেছে, কর কমালে শিল্পে নগদ অর্থ বাড়বে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া নতুন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি ধরে রাখতে প্রণোদনার হার ৪ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা দরকার।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রণোদনার আওতা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ডলার করার অনুরোধ জানিয়ে সংগঠন বলেছে, এতে ছোট কারখানাগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এছাড়া শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আবাসন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পোশাক খাতকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়েছে পোশাক মালিকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহসভাপতি এসএম মান্নান কচি, সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, নাসির উদ্দিন, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, পরিচালক আব্দুলাহিল রাকিব, মহিউদ্দিন রুবেল প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন