চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

Nagod
Bkash July

শরীয়তপুরের নড়িয়াসহ কয়েকটি উপজেলায় সম্প্রতি পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের কৃষি এবং এসএমই খাতের ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ আর্থিক নীতি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতি সহায়তার অংশ হিসাবে সুদ মওকুফসহ ৫ ধরনের সুবিধা দেওয়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Sarkas

এতে বলা হয়েছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলা সম্প্রতি পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাজার, ঘর বাড়ি, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্রিজ-কালভার্ট ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকার ঋণগ্রহীতা বিশেষত কৃষি এবং এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

এছাড়া নদী ভাঙনের কারণে আয় উৎসারি কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হারে ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি করাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায়, কৃষি এবং এসএমই খাতের ঋণ হিসাবগুলো বিরূপভাবে শ্রেণিকৃত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতা দেখা দিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে, নদী ভাঙনে শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনাসহ তাদের পুনর্বাসনে আর্থিক নীতি সহায়তা দিতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১. নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ খেলাপিতে পরিণত না হন, সে লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে, ক্ষেত্র বিশেষে ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিলপূর্বক, কৃষি এবং এসএমই খাতের ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে। তাছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতারা যাতে প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে যথাসময়ে নতুন ঋণ সুবিধা পেতে পারেন সে লক্ষ্যে কোনও অর্থ জমা ব্যতিরেকেই পুনঃতফসিল পরবর্তী নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে।

২. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার নিমিত্তে এবং আবাদযোগ্য (যদি থাকে) স্থানসমূহে কৃষি কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কৃষকদের প্রকৃত চাহিদার নিরিখে বিশেষ কৃষি ঋণ হিসেবে ৪ শতাংশ রেয়াতি হার সুদে আমদানি বিকল্প ফসলসমূহে (ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ভুট্টা) কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদানে প্রাধান্য দিতে হবে।

৩. চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নদী ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হওয়া নিঃস্ব কৃষকদের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পর্ষদকে সুদ মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. নতুন করে কোনও সার্টিফিকেট মামলা দায়ের না করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনাদায়ী ঋণসমূহ যাতে তামাদি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়েরকৃত সার্টিফিকেট মামলাগুলোর তাগাদা ৬ মাস বন্ধ রেখে প্রয়োজনে সোলেনামার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

৫. নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে প্রকৃত চাহিদা মোতাবেক যথাসময়ে নতুন ঋণ পেতে কোনও হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

BSH
Bellow Post-Green View