চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন প্রজন্মের বীরশ্রেষ্ঠ

বিবেকের তাড়নায় দংশিত হয়ে প্রতিনিয়ত তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি, যারা অতি আপনজন প্রিয় মানুষকে ঘরে রেখে দেশের সকল মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কাজ করে চলেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে আমরা শব-ই বরাতের মতো এমন একটি মহিমান্বিত রাত পেয়েছি। লাখো মুসলমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে হাত উঠিয়েছেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, নিশ্চয়ই কারো না কারো হাত কবুল করে নেবেন।

অচিরেই আমরা বিপদমুক্ত হব ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর অমর বাণী-‘আমরা এদেশকে স্বাধীন করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ সকল ত্যাগ তিতিক্ষায় মাত্র ৯ মাসে এদেশের স্বাধীনতা লাভের ভেতরে নিহিত ছিল ‘ইনশাআল্লাহ’র বরকত।

বিজ্ঞাপন

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার অবদানের কথা সংক্ষিপ্তভাবে বলে শেষ করা য়াবে না। অথচ অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, তাঁকেই ক্ষমতা লোভী ঘাতকেরা স্বপরিবারে শেষ করে রক্তের বন্যা বইয়ে দিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। বঙ্গবন্ধু ভাবার অবকাশ পাননি যে, যারা তাঁর নিকট অবাধে যাতায়াত করত, এরাই কী করে এতো বড় বিশ্বাস ঘাতক হতে পারে! খুনিরা বংশ নিপাত করতে বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র রাসেলকেও হত্যা করল। যে শিশু ক্যাপ্টেন মাজেদের হাত ধরে বলেছিল- আঙ্কেল আমি মায়ের কাছে যাব, পানি খাব।

বলাই বাহুল্য ক্যাপ্টেন মাজেদ একজন জঘন্য খুনি। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পলাতক মাজেদ ময়মনসিংহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে প্রবেশ করে। পরে রাজধানী মিরপুরের গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামী আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

বিজ্ঞাপন

কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটা চোরের জন্যও মনে মমতা জাগে। কারণ যে চোর অভুক্ত অবস্থায় ভাত যোগাড় করতে চুরি করে, সে প্রকৃত অর্থে চোর নয়। সে অপরাধী নয়, অপরাধী এই সমাজ। দু’ মুঠো ভাতের জন্য মানুষ কি না করতে পারে! মহানবী সা: বলেছেন, ‘যার প্রতিবেশী উপোস করে, সে আমার উম্মত নয়।’ চোর এরা, যারা এই মহামারি কালে (খেটে খাওয়া) অনাহারির মুখের কেড়ে নেয় অর্থাৎ ত্রাণের চাল চুরিতে লিপ্ত।

দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতিতে প্রকাশ পাচ্ছে আমাদের প্রকৃত চেহারা। যেসব ডাক্তার -নার্স প্রাণের ভয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা কিংবা সেবা দিতে অনিচ্ছুক, যারা অজ্ঞতার কারণে প্রাথমিকভাবে ভাইরাস ছড়িয়েছে, তাদের অন্তত ঘৃণা করা য়ায় না। ঘৃণা এদের করা যায়, যারা এমন ভয়াবহ বিপদেরকালেও অসৎ কাজে লিপ্ত। মূলত অসৎ লোকজনের সময় অসময় বলে কিছু নয়, অর্থ এবং ক্ষমতার লোভটাই এদের কাছে বড়। ক্ষমতালোভী খুনিরা ভাবে নাই যে, বঙ্গবন্ধুর বংশ নিপাত হয়ে যায়নি। পিতার সুযোগ্যকন্যা শোক থেকে শক্তি অর্জন করে, ন্যায়ের পক্ষে ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের শাসন কার্য পালন করছেন।

দেশবাসী, বিশ্ববাসী আজ ভালভাবে বুঝতে পারছে অনুধাবন করতে পারছে, তিনি কতটা মমতাময়ী আর কতটা জনদরদী! দেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় তিনি নিজের বিশ্রামটুকুও ত্যাগ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে ব্যতিব্যস্ত। লকডাউন পালন করতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। কৃষক ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এক টুকরো জমিও অনাবাদী না রাখতে। যাতে অর্থনৈতিক মন্দাতে কিছুটা হলেও যোগান হয়। আমাদের দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

আমাদের প্রাণ বাঁচাতে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি মূহুর্তে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে কোনো কোনো মহলে নেতিবাচক দিক খুঁজে বের করে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা। যেমন- মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য সম্প্রচার মূলক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছেন ৮ মার্চ থেকে। তাঁকে নিয়ে উপহাসমূলক কটুক্তি, খালামা সম্বোধন করে শাড়ির সংখ্যা নিয়ে চলছে রঙ রসের কথাবার্তা। (বাংলাদেশের প্রতিটা নারীরই নিত্য নতুন শাড়ি পছন্দ) মানুষগুলো হয়তো জানেই না তাঁর ক্যারিয়ার সম্পর্কে। সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলাদেশ রোগতত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে. M.B.B.S, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে রোগতত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি , পরে ক্যামমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অবোধ মানুষ বুঝতে পারছে না, আমাদের কত সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবদিক থেকে আমরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছি।

যাইহোক, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেসকল মহৎপ্রাণ ভাই ও বোনেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তারা বিজয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ। তাঁরা যুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে ঘরে ফিরে আসবেন।  তাঁরা হবেন নতুন প্রজন্মের বীরশ্রেষ্ঠ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)