চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

নতুন ঋণের ফাঁদে বার্সার সর্বনাশের শঙ্কা

Nagod
Bkash July

‘এস্পাই বার্সা’ নামের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ার মেগা প্রজেক্টে হাত দিয়েছে বার্সেলোনা। প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়া হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ইউরো। যা একসময় ক্লাবটির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্পেনের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ মার্ক সিরিয়া।

ঋণের অর্থ শোধ করতে না পারায় ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ঋণদাতাদের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন মার্ক।

বার্সার সঙ্গে অর্থনীতিবিদ সিরিয়ার বেশ একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তার সময়ে ক্লাবটির ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজার ছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বার্সার আর্থিক অবস্থার নাড়িনক্ষত্র বেশ ভালো জানা তার।

স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম ইএফইকে সিরিয়া সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারী ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস থেকে নেয়া বার্সার ৮০০ মিলিয়ন ইউরো একটা পর্যায়ে ক্লাবটির জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

‘গোল্ডম্যানের সঙ্গে চুক্তি আপাতত ঠিক আছে। কারণ তারা শতকরা ৩ কিংবা ৪ হারে সুদ নিচ্ছে। কিন্তু কী হবে যখন বার্সেলোনা ঋণ শোধ করতে পারবে না, তখন গোল্ডম্যান এসে দরজায় কড়া নাড়া শুরু করবে।’

‘প্রশ্ন হচ্ছে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে বার্সা কি করবে? ক্লাবের সম্পত্তিতে হাত দেবে? স্টেডিয়াম দিয়ে দেবে? কারণ বার্সা ঋণ নিচ্ছে বিনিয়োগকারী ব্যাংক হতে, আর একটা বিনিয়োগকারী ব্যাংকের নিয়মকানুন সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় বেশ শক্ত।’

‘বর্তমান বোর্ড সদস্যদের বিষয়টা পরিষ্কার করে যাওয়া উচিৎ। কারণ একবার দায়িত্ব ছাড়ার পর এস্পাই বার্সা নিয়ে তাদের আর কোনো মাথাব্যথা থাকবে না।’

আগামী মার্চে বার্সার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সিরিয়ার মতে নতুন ক্লাব প্রেসিডেন্ট কোনভাবেই এমন প্রকল্পে হাত দিতেন না, ‘বার্সার নতুন প্রেসিডেন্ট কোনভাবেই এই ঋণ দিয়ে এস্পাই বার্সা বানাবেন না। এখন অন্য ঋণদাতার সন্ধান করতে হবে এবং কম খরচে প্রকল্প তৈরি করতে হবে। কারণ আগামী ১০-১৫ বছরের আগে ন্যু পালাই ব্লাউগ্রানা (বার্সার আরেকটি স্টেডিয়াম) ও অন্য স্থাপত্যগুলো থেকে আয়ের চিন্তাও করা যাবে না।’

করোনা মহামারীর কারণে গত মৌসুমে বেশ লোকসান করেছে বার্সা। ২০১৯-২০ মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির ক্ষতি হয়েছে ৯৭ মিলিয়ন ইউরো। দেনাও হয়েছে দ্বিগুণ। ২০১৮-১৯ মৌসুম শেষে যেখানে দেনা ছিল ২১৭ মিলিয়ন ইউরো, ২০১৯-২০ মৌসুম শেষে সেটা এক লাফে হয়েছে ৪৮৮ মিলিয়ন।

সিরিয়ার মতে ঋণ দেয়া অর্থ ফেরত নিতে গিয়ে বার্সার মালিকানায় ভাগ বসাতেই গোল্ডম্যান স্যাকস অর্থ দিচ্ছে ক্লাবটিকে, ‘গোল্ডম্যান স্যাকস অর্থ ঋণ দেয়ার জন্য পরিচিত না বরং তারা একটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাদের শেয়ারে টান দেয়।’

‘তারা অন্য সাধারণ ব্যাংকগুলোর মতো না। গোল্ডম্যান স্যাকসের উপস্থিতি প্রমাণ করে বার্সা এখন আর অন্যকারও কাছে ঋণ চাইতে পারছে না। কারণ তাদের এখনো প্রায় ৫০০ মিলিয়নের মতো ধার আছে।’

BSH
Bellow Post-Green View