চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন আইনে কি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে?

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যখন দিন দিন বাড়ছে, তখন এর লাগাম টেনে ধরতে বড় শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে নতুন এই আইন কার্যকর।

এবারের সড়ক পরিবহন আইনে বেশির ভাগ ধারার জরিমানা ১০ থেকে ৫০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। কিছু কিছু ধারায় তা এক হাজার গুণ বেড়েছে। আগে যেসব ধারায় তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান ছিল, এখন তা তিন বছর পর্যন্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে সরকার। তবে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে আইনটি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত আইন কার্যকর হওয়ায় আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাই।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়: সড়ক পরিবহনের নতুন এই আইন চালু হলেও পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবে প্রথম দিন তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) এডিশনাল কমিশনার ট্রাফিক বলেছেন, গেজেট মাত্র কিছুদিন আগেই হয়েছে, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সেখানে উল্লেখ আছে ১ নভেম্বর থেকে আইন কার্যকর হবে।

তিনি বলেন: আমরা এরই মধ্যে পুরাতন আইন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আর নতুন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করতাম সেখানে অনলাইন মাধ্যমে আমরা কাজ করতাম। এটা অত্যন্ত জটিল কাজ, আমরা কাজ শুরু করেছি। আপাতত কিছুদিন আগের যে সিস্টেম ছিল হাতে লিখে স্লিপ দিয়ে, সেটা কিছুদিনের মধ্যেই শুরু করব।

আমরা মনে করি, নতুন আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আগের আইনে জরিমানাসহ অন্যান্য দণ্ড কম ছিল। এক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার জরিমানা কেউ আমলে নিত না। কারণ, ২০০ বা ৫০০ টাকার জরিমানা তাদের কাছে কিছুই না।

এই আইনের সবচেয়ে আলোচিত দু’টি বিষয় হলো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে শাস্তির বিধান এবং পথচারী পারাপারে নিয়ম মানা। পথচারী সড়ক-মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং, পদচারী-সেতু, পাতালপথসহ নির্ধারিত স্থান দিয়ে পার না হলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের মুখে পড়বেন।

এমন একটি আইন কার্যকরের আগে পর্যাপ্ত প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিরও অভাব ছিল। এ বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে আমলে নিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা বাড়াতে হবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় মরণ ফাঁদের বদলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেই আমাদের আশাবাদ।

Bellow Post-Green View