চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন অর্থবছরে ২ লাখ ৩৭ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

নতুন অর্থবছরে (২০২১-২২) ১ হাজার ৫১৫টি প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন এনইসির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন করোনার কারণে আমরা অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারিনি। এগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শেষ করতে হবে। তার মধ্যে যেগুলো সরাসরি জনগণের কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এছাড়া গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এডিপির বিস্তারিত তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপি আওতায় ১ হাজার ৪২৬টি প্রকল্প এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৮৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলবে। নতুন অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত এডিপি অনুমোদন করেছে এনইসি। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার জোগান দেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এডিপিও অনুমোদন করেছে এনইসি। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৮ লাখ এবং বিদেশি উৎস থেকে ৪ হাজার ৭৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার জোগান দেয়া হবে।

নতুন এডিপির বরাদ্দ মোট ১৫টি খাতে দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাতের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি (২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৪৫ কোটি ৮৬৮ কোটি (২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে প্রায় ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি (১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ), শিক্ষা খাতে প্রায় ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি (১০ দশমিক ২৯ শতাংশ), স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৭ হাজার ৩০৭ কোটি (৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ), স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রায় ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি (৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি খাতে প্রায় ৮ হাজার ৫২৬ কোটি (৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ), কৃষি খাতে প্রায় ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি (৩ দশমিক ৪০ শতাংশ), শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৮ কোটি (২ দশমিক ০৬ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা (১ দশমিক ৫৯ শতাংশ)।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ; প্রায় ৩৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রায় ২৮ হাজার ৪২ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগ প্রায় ২৫ হাজার ৩৪৯ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রায় ২০ হাজার ৬৩৪ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রায় ১৩ হাজার কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ১১ হাজার ৯২০ কোটি, সেতু বিভাগ প্রায় ৯ হাজার ৮১৩ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৮ হাজার ২২ কোটি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৬ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

এনইসি সভা সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা এবং বিদেশ থেকে প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।

বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন ৫৯৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদেশি ঋণ-অনুদান পাওয়ার সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন ১৪১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিপিপি প্রকল্প ৮৮টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমাপ্তির জন্য ৩৫৬টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ৫৭টি প্রকল্প ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।