চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন অর্থবছরেও সংযমী ব্যয় নীতি অব্যাহত থাকবে: অর্থমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের কারণে নতুন অর্থবছরেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের সংযমী ব্যয় নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ১৯তম অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও ২৩তম সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করা হবে না। কারণ উন্নয়ন ব্যয়ের নামে অপচয়ের চেয়ে এই মুহুর্তে টিকা কেনা, স্বাস্থ্য খাতসহ জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয় এমন কাজে অর্থ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, এ কারণেই কিছুটা কৃচ্ছতার নীতি অনুসরণ করবে সরকার।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আজকে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১৬টি প্রকল্পে কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হবে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। আর বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৫৩ কোটি টাকা।

‘চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকার ব্যয় কম করেছে। এই সংযমী নীতি নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে থাকবে কি-না?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কম ব্যয় করেছে এই মতের বিরোধী আমি। করোনার কারণে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এরকম অবস্থায় সরকার যতটা প্রয়োজন ততটাই ব্যয় করতে চেয়েছে। যাতে অপচয় না হয়। সরকার এখনও অপচয় করতে চায় না।

বিজ্ঞাপন

কঠোর লকডাউনে দরিদ্রদের নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সরকার দুস্থদের সহায়তা করে যাচ্ছে। নগদ অর্থ দিচ্ছে। যারা সমস্যায় আছেন বলে চিহ্নিত করা গেছে তাদের নগদ সহায়তা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও করা হবে। এ বিষয়ে আলাদা কমিটি আছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখাশোনা করেন। কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার হলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেবেন।

তৈরি পোশাক খাতে দেয়া বিশেষ প্রণোদনার কিস্তি ছাড়ের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন উদ্যোক্তারা। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কিনা?

এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল, তার এখন প্রয়োজন আছে কিনা সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন।

অর্থনীতিতে লকডাউনের প্রভাব কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার সব সময়ই ভালো প্রত্যাশা করে। এখনও তাই করছে। গত বছরও লকডাউন ছিল, তার মধ্যে যেসব লক্ষ্য ছিলো সেগুলো অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব বেড়েছে ১৭ শতাংশ। রেমিট্যান্স, রিজার্ভ বেড়েছে। অনেকেই বলেছিলেন, রেমিট্যান্স কমে যাবে। কিন্তু এই এক বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স এসেছে। এটা আর কখনো হবে কিনা জানি না।

তিনি বলেন, তবে অন্যান্য সবার মতো সরকারেরও একটা উদ্বেগ আছে। সেটা হচ্ছে টিকাদান। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব এটা করতে হবে এবং সেটা করা হচ্ছে। আপনারা শিগগিরই সেটার রেজাল্ট পাবেন।

বিজ্ঞাপন