চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি নিরব-অপু

গন্তব্য যদি রাঙ্গুনিয়ার কোদালা চা বাগান হয়, তাহলে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব গাড়িতে গেলে পাক্কা দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে! যেখানে শুটিং হয়েছে চিত্রনায়ক নিরব ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস জুটির প্রথম সিনেমা ‘ছায়াবৃক্ষ’র।

অনুপম কথাচিত্রের ব্যানারে সরকারি অনুদান পাওয়া এ ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল ৬ নভেম্বর থেকে। অনুকূল পরিবেশের মধ্যে টানা ১১ দিনেই প্রায় ৭০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন ছবির প্রযোজক অনুপ কুমার বড়ুয়া।

বিজ্ঞাপন

প্রথম লটের শুটিং শেষ করে নিরব-অপুসহ ‘ছায়াবৃক্ষ’র পুরো ইউনিট ঢাকায় ফিরেছে মঙ্গলবার। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে চিত্রনায়ক নিরব জানান, তারা যেখানে শুটিং করেছেন সেখানে ৩৫ বছর কোনো কোনো সিনেমার শুটিং হয়নি।

নিরব বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি ৩৫ বছর আগে ‘মধুমিতা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং হয়েছিল কোদালা চা বাগানে। স্থানীয় একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ শুটিং দেখতে এসে আমাদের বলেছেন।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ‘ছায়াবৃক্ষ’র শুটিং দেখতে আসতো। এজন্য শুটিং করতে গিয়ে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানান নিরব।

তিনি বলেন, পরিবেশ অনুকূলে ছিলো না। দিনে ভয়ঙ্কর গরম, রাতে প্রচণ্ড কুয়াশা ছিলো। শুটিং করতে গিয়ে প্রোডাকশনের ছেলেরা অসুস্থ হয়ে যায়। শুটিং করেছি এক জায়গায়, মেকাপ নিয়েছি আরেক জায়গায় এবং রাতে থেকেছি অন্য জায়গায়। এরমধ্যে যেখানেই যাই সেখানে পিঁপড়ার মতো মানুষ ঝেঁকে ধরতো। নিরাপত্তা কর্মী থাকলেও তারা ভিড় সামলাতে পারতো না।

নিরব বলেন, কষ্ট হলেও আমরা স্ক্রিনে সেরা পারফর্ম দেয়ার চেষ্টা করেছি। দৃশ্যধারণ এত চমৎকার হয়েছে যে চা বাগানের আমি, অপু বিশ্বাস, নওশাবা এবং সুমিতের একটা গান রয়েছে; দেখলে মনে হবে বিজ্ঞাপনের দৃশ্য! এতো ঝকঝকে চকচকে দৃশ্যধারণ। এছাড়া এবারই প্রথম অপু বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করলাম। সম্মান জানিয়ে তাকে আমি আপনি বলে সম্মোধন করি। উনি এতো ভালো অভিনয় করেছেন যে অন্যপাশে থেকে তার এক্টিং স্কিলে রিঅ্যাকশনে আমার অভিনয় অটোম্যাটিক চলে এসেছে। এছাড়া প্রযোজকের সহযোগিতা, পরিচালকের মেধা এবং ডিওপি’র ক্যারিশমায় চমৎকার কাজ হয়েছে।

পরিকল্পনা ছিল একটানা শুটিংয়ে ‘ছায়াবৃক্ষ’র পুরো শুটিং সম্পন্ন হবে। কিন্তু ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রেখে শুটিং আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে। ডিসেম্বরে ৮ থেকে ১০ দিন শুটিং করতে পারলে বাকি অংশের কাজ শেষ হবে বলে জানালেন নিরব।

তিনি বলেন, যে চা বাগানে শুটিং করেছি সেটি ব্র্যাকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সেখানে বিদেশ থেকে অডিট আসছে। সেজন্য মানুষের ভিড় এড়াতে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আপাতত শুটিং বন্ধ করেছি। ২৪ নভেম্বর থেকে আবার শুটিংয়ে প্ল্যান থাকলেও হয়তো ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের আগে হয়ে উঠবে না।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিরব বলেন, আরও কয়েকটি ছবি তো অনুদান পেয়েছে। অন্য ছবিগুলো কেমন হচ্ছে সেটা তো জানি না, তবে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি আমাদের ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবি অন্যরকম হচ্ছে। সরকারি অনুদান হলেও আমরা কর্মাশিয়ালি ফাইট করতে পারবো। ভিন্নধারা ও বাণিজ্যিক ধারা দুটোর কম্বিনেশন পাবে দর্শক। কাজটা ভালো হচ্ছে এজন্য কোনো কষ্টের তোয়াক্কা করিনি।